শাহানা হুদা রঞ্জনা | The Daily Star Bangla
  • শাহানা হুদা রঞ্জনা

  • তাদের গল্পগুলো যেন সব হারানোর গল্প

    অনেক আগে আমরা ট্রেনে করে যখন রংপুর যেতাম, তখন বাহাদুরাবাদ ঘাটে নেমে লঞ্চে করে পার হয়ে অন্য ঘাটে গিয়ে আবার ট্রেনে উঠতে হতো। সেরকমই একবার লঞ্চ আসেনি বলে আমি আর আব্বা ঘাটে দাঁড়িয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ চারিদিকে বিরাট শোরগোল। আমি কিছু বোঝার আগেই আব্বা আমার হাত ধরে হ্যাঁচকা টানে আমাকে কোলে তুলে নিয়ে দৌঁড় দিয়েছিলেন। থামার পর পেছনে ফিরে দেখলাম ঠিক আমরা যে জায়গাটায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, সেই পাড়টি ভেঙে পড়ল নদীতে। মানে আর একটু হলে আব্বা আর আমিও নদীতে হারিয়ে যেতাম। সেই দৃশ্য দেখে আমি এতই বিস্মিত হয়েছিলাম সেদিন যে, নদীভাঙন কথাটা না বুঝলেও ভয়ে আমার কথা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
  • কোনটা জরুরি: দুষ্টের দমন নাকি কুকুর নিধন?

    একের পর এক ঘটনা দেখে আমরা হতভম্ব হয়ে যাচ্ছি। একটার চেয়ে আরেকটা বেশি মারাত্মক, পাশবিক, কষ্টের। ক্ষোভ প্রকাশের কোনো ভাষা আমাদের জানা নেই। শুধু বুঝতে পারছি, ক্রমশ হতাশা গ্রাস করছে দেশের একটা বড় অংশকে। যেদেশে সরকারি কর্মকর্তার জীবনেরই কোনো নিরাপত্তা নেই, সেদেশে সাধারণ মানুষ যে নিশ্বাস বন্ধ করে আছে, তা সহজেই অনুমেয়।
  • Joshore_Unnayan_Kendra.jpg

    কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র: রক্ষকই যেখানে ভক্ষক

    প্রায় ১৫ কিংবা ২০ বছর আগে রহিম নামে একটি ছেলের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে পরিচয় হয়েছিল। ছেলেটার বয়স তখন আনুমানিক ১৩ বা ১৪ বছর। সারা গায়ে লাল লাল দাগ। মুখটা দেখে কেন যেন খুব মায়া হয়েছিল। মনে হলো বাচ্চাটা ক্ষুধার্তও। নিজেই গিয়ে কথা বললাম। রহিম জানালো ও পালিয়ে এসেছে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে। বাবা-মা কেউ নেই। বস্তিতে খালার কাছে থাকতো। একবার বস্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ রহিমকে আটক করে সংশোধনালয়ে পাঠায়।
  • Indigenous families.jpg

    ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আত্ম-অধিকার অস্বীকারের মানে, নিজেদের অধিকার অস্বীকার’

    বেড়াতে যেতে চাইলে আমরা প্রথমেই ভাবি পাহাড়ে বা সমুদ্রে যাওয়ার কথা। তিন পার্বত্য জেলা- রাঙামাটি, বান্দরবান কিংবা খাগড়াছড়িকে আমরা এখন পুরোটাই টুরিস্ট স্পট বানিয়ে ফেলেছি। পাহাড়ে বেড়ানো, পাহাড়ি রান্না খাওয়া, পাহাড়িদের বাড়িতে থাকা, তাদের সাংস্কৃতিক উৎসব উপভোগ করি। রাশ মেলা, বিজু, নবান্ন, ওয়ান্নাগালা কোনো উৎসবই বাদ দেই না, সবই আমাদের আনন্দের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  • গৃহকর্মী মানে কিন্তু দাস নয়

    আমার পরিচিত একজন ‘শিক্ষিত-ভদ্র নারী’ বাসার কিশোরী গৃহকর্মীকে মারতে মারতে মেরেই ফেলেছিলেন। কিশোরীর অপরাধ সে মাংস চুরি করে খেয়েছে। এই নিয়ে এলাকায় ব্যাপক হইচই হলো, তাদের বিরুদ্ধে অবরোধও করা হয়েছিল। এরপর এক লাখ টাকা দিয়ে মানুষ হত্যার হাত থেকে পার পেয়েছিলেন তিনি। যতদূর শুনেছি, তার ছোট ছোট সন্তানরা মায়ের এই অপরাধ ক্ষমা করতে পারেনি।
Top