শারীরিকভাবে চলে গেছেন, অনেককিছু রেখে গেছেন | The Daily Star Bangla
১০:৪১ পূর্বাহ্ন, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৯ / সর্বশেষ সংশোধিত: ১২:৫২ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯

শারীরিকভাবে চলে গেছেন, অনেককিছু রেখে গেছেন

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

২০১৯ সালে চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, নাটকসহ শোবিজের নানা অঙ্গনের বহু গুণী মানুষ চলে গেছেন জীবনের ওপারে। রেখে গেছেন তাদের অনেক সৃষ্টিকর্ম। সেইসব মানুষেরা  স্মৃতি হয়ে আজীবন থাকবেন হৃদয়ে। একনজরে জেনে নেই, ২০১৯ সালে যাদের হারিয়েছি ।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল

বাংলা গানের প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার ও বীরমুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ৬৩ বছর বয়সে রাজধানীর বাড্ডায় নিজ বাসায়  মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। ৭০ এর দশকের শেষ লগ্ন থেকে আমৃত্যু বাংলাদেশের চলচ্চিত্রসহ সক্রিয় ছিলেন গানে। 

শাহনাজ রহমতউল্লাহ

সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমতউল্লাহ ২০১৯ সালের ২৩ মার্চ মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। ১৯৯২ সালে একুশে পদক দেওয়া হয় তাকে। ১৯৯০ সালে ‘ছুটির ফাঁদে’ ছবিতে গান গেয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, ‘আমার দেশের মাটির গন্ধে’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বল রে আমায় বল’, ‘আমায় যদি প্রশ্ন করে’, ‘যদি চোখের দৃষ্টি’, ‘সাগরের তীর থেকে’ তার গাওয়া জনপ্রিয় গান।

সুবীর নন্দী

গুণী কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী ৭ মে ৬৬ বছর বয়সে মারা যান । গানের স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। শ্রোতাপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- ‘দিন যায় কথা থাকে’, ‘আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘আশা ছিল মনে মনে’, ‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে’, ‘বন্ধু তোর বরাত নিয়া’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার’, ‘কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘পাহাড়ের কান্না দেখে’, ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি’, ‘একটা ছিল সোনার কইন্যা’, ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’।

টেলি সামাদ

চলচ্চিত্রের শক্তিশালী অভিনেতা টেলি সামাদ মারা গেছেন ৭ এপ্রিল। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।  তিনি হৃদরোগ, ক্যানসার ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। চার দশকে প্রায় ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা।

আনিস

চলচ্চিত্রাভিনেতা আনিসুর রহমান আনিস ২৯ এপ্রিল রাজধানীর টিকাটুলির অভয় দাস লেনের নিজ বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।  দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

সালেহ আহমেদ

অভিনেতা সালেহ আহমেদ আর ২৪ এপ্রিল রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন এই অভিনেতা। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। ধারাবাহিক ‘অয়োময়’ নাটক এবং ‘আগুনের পরশমণি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় জগতে তার পদচারণা। সালেহ আহমেদ পেয়েছেন স্বাধীনতা পদক।

মমতাজউদদীন আহমদ

বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক মমতাজ উদ্দীন আহমদ। তিনি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ১৯৯৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন। ২ জুন না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

বাবর

চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক বাবর মারা যান ৬ আগস্ট। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তার অভিষেক ঘটেছিল আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘বাংলার মুখ’ সিনেমায় নায়ক চরিত্রে । খলনায়ক হিসেবে রাজ্জাক প্রযোজিত ও জহিরুল হক পরিচালিত ‘রংবাজ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। পরিচালক হিসেবে  ‘দয়াবান’, ‘দাগী’, ‘দাদাভাই’সহ বেশ কিছু ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন।

মাহফুজুর রহমান খান

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান ৬ ডিসেম্বর শেষ  নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিলে ৭০ বছর। চলচ্চিত্রে চিত্রগ্রহণের জন্য ৯বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসেবে ১৯৭০ সালে ‘দর্প চূর্ণ’ ও ১৯৭১ সালে ‘স্বরলিপি’ চলচ্চিত্রে কাজ করেন।

কালিদাস কর্মকার

অক্টোবর মাসে বিদায় নিয়েছেন চিত্রশিল্পী কালিদাস কর্মকার। গত ১৮ অক্টোবর ইস্কাটনের বাসায় অচেতন অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হুমায়ূন সাধু

তরুণ নাট্য নির্মাতা ও অভিনেতা হুমায়ূন সাধু। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ অক্টোবর তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। সিনেমা নির্মাণের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।

পৃথ্বী রাজ

তরুণ শিল্পী, সুরকার, সংগীত পরিচালক পৃথ্বী রাজ। গত ১৫ ডিসেম্বর নিজের স্টুডিও জিলাপিতে কাজ করার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই তরুণ।

Stay updated on the go with The Daily Star Android & iOS News App. Click here to download it for your device.

Grameenphone and Robi:
Type START <space> BR and send SMS it to 2222

Banglalink:
Type START <space> BR and send SMS it to 2225

পাঠকের মন্তব্য

Top