আমার বঙ্গবন্ধু | The Daily Star Bangla
০৫:৫৯ অপরাহ্ন, মার্চ ১৭, ২০২০ / সর্বশেষ সংশোধিত: ০৬:০১ অপরাহ্ন, মার্চ ১৭, ২০২০

আমার বঙ্গবন্ধু

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালিত হচ্ছে আজ ১৭ মার্চ। আজ শতবর্ষে পা দিলেন জাতির এই মহানায়ক। তার স্বপ্ন, দর্শন, আদর্শ, প্রাপ্তি ছড়িয়ে রয়েছে বাংলার আকাশে-বাতাসে, মানুষের হৃদয়ে। একজন রাজনৈতিক স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ১০ জন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বলেছেন তাদের একান্ত ভাবনার কথা।

ববিতা

হিমালয়ের চেয়ে বড় শ্রেষ্ঠ বাঙালি হলেন বঙ্গবন্ধু। বিংশ শতাব্দীর এক মহান নেতা আমাদের বঙ্গবন্ধু। পৃথিবীর অনেক মহান নেতাকে অতিক্রম করেছেন জাতির জনক। জাতির জনক আমার মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, ‘তুই একদিন অনেক বড় অভিনেত্রী হবি।’ আমার ভীষণ ভালো লাগে লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যেতে পেরেছি। এটা জাতির জনকের জন্য সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ একই মালায় গাঁথা।

জুয়েল আইচ

স্কুলজীবন থেকেই মিছিলে যেতাম। কিন্তু, ঠিক কী কারণে এই প্রতিবাদ তা পুরোপুরি বুঝতে পারতাম না। মিছিলে পোস্টারগুলো আঁকা হতো নানা আঙ্গিকে, বোঝানো হতো গাভী ঘাস খাচ্ছে পূর্ব পাকিস্তানে আর দুধ নিয়ে যাচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তান। এটুকু বুঝতাম আমাদের শোষণ করে আসছে তারা। বঙ্গবন্ধুকে তখনো ভালোভাবে চিনি না। এর মধ্যে তাকে বেশ কয়েকবার জেল খাটতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। সত্যি বলতে তাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা। তাকে দেশদ্রোহী হিসেবে বন্দি করা হলো। আমরা একজন কাছের মানুষ পেলাম, যিনি নিজের জীবন দিয়ে হলেও আমাদের জন্য কিছু করবেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দেয় বাঙালি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তা প্রকাশ পায়। ‘জয়বাংলা’, ‘তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা’— এগুলো আমাদের কমন স্লোগান ছিল। দেশ স্বাধীনের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লাম সবাই।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ যা মঞ্চের বেশ কাছে দাঁড়িয়ে শোনার-দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। অবিশ্বাস্য সে ভাষণ। লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি। আমাদের মনে হয়েছিল যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করার ক্ষমতা আছে আমাদের। রেডিও পাকিস্তান ঢাকা এ ভাষণ প্রচার করতে দেয়নি। এতে মানুষ আরও ক্ষিপ্ত ছিল। পত্রিকার পাতায় ভাষণ বারবার পড়তাম। বঙ্গবন্ধু নামে যে মানুষটি আমাদের মনে জায়গা করে নিলেন, তিনি যা করছেন সবই ঠিক। তিনি আমাদের পথপ্রদর্শক। যুদ্ধ যখন চলছিল, কবে শেষ হবে তা নিয়ে কোনো ধারণা ছিল না। কিন্তু, বঙ্গবন্ধুর জন্যই আমরা এই স্বাধীন বাংলাদেশ পেলাম। বাঙালি স্বাধীন হলো। আজ সারা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াই, ম্যাজিক দেখাই স্বাধীন দেশের কারণে। জুয়েল আইচ হয়েছি বাংলাদেশ হওয়ার কারণে। আর বাংলাদেশ পেয়েছি বঙ্গবন্ধুর কারণে।

সোহেল রানা

৭ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলে ছিলাম। সারা দিনই হইচই আর দৌড়াদৌড়ি। একবার হলে যাচ্ছিলাম, আবার মাঠে যাচ্ছিলাম। অপেক্ষা করছিলাম কখন বঙ্গবন্ধু আসবেন। আমাদের হলে ১টার সময় দুপুরের খাওয়া-দাওয়া হয়ে যেত। তাড়াতাড়ি এসে কিছু খেয়ে আবার মাঠের দিকে দৌড় দিলাম। হল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান খুব বেশি দূরে নয়। পাঁচ মিনিটের হাঁটা রাস্তা। চারদিক থেকে লাখ লাখ জনতা এসে ভিড় করেছে। ভাষণের সময় আমি স্টেজের কাছাকাছিই ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি কথা তখন আমাদের কাছে যে কী ছিল, সেটা আসলে এখন বুঝিয়ে বলতে পারব না। আমাদের মোটামুটি ধারণা ছিলই, তার কাছ থেকে কী ঘোষণা আসবে। উনি এসে নির্দিষ্ট করে যে নির্দেশনাগুলো দিলেন, সেটা পৃথিবীর আর কোনো নেতা কখনো দিতে পারেননি।

আফজাল হোসেন

বঙ্গবন্ধুর ভেতরে বিশেষ এক ক্ষমতা ছিল, তা দিয়ে তিনি সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং দেখিয়েছিলেন স্বাধীন দেশের। এর ফলে একেবারেই সাধারণ মানুষ, যারা যুদ্ধ শব্দের মানে জানত না, তারাই যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছে। সাধারণের ভেতরকার অসাধারণত্বকে আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এই উদাত্ত আহ্বান মাথা পেতে গ্রহণ করেছিল জাতি। আমরা লড়েছি, পেয়েছি স্বাধীনতা, পতাকা, দেশ। পৃথিবীর মাঝখানে তৈরি হয়েছে আমাদের আলাদা অস্তিত্ব। সগৌরবে বলতে পারি, আমি বাঙালি, আমরা বাংলাদেশি।

রাইসুল ইসলাম আসাদ

এক কথায় বলতে গেলে বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আজ আমরা যে স্বাধীন বাংলাদেশে পেয়েছি, সেটা তার কল্যাণেই। তার চেতনা, সাহস আর বুদ্ধির দীপ্তি পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে যেতে পারেনি। কারণ এর আগে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলার বুক থেকে। আমরা হয়তো ভৌগোলিক স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এখনো পাইনি। তিনি যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে আমাদের সবাইকে আরও নির্মোহভাবে কাজ করতে হবে।

ফরিদুর রেজা সাগর

আমি গর্বিত বঙ্গবন্ধুর মতো একজন মহান নেতার দেশে জন্মগ্রহণ করেছি। আমি আরও গর্বিত তার পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্বে এগিয়ে চলা দেশে বাস করছি এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার অগ্রগতি দেখে যেতে পারছি। আমার কাছে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই সুতোয় গাঁথা।

কুমার বিশ্বজিৎ

তাঁর অবদানের কথা এক কথায় শেষ করা যাবে না। একটা স্বাধীন দেশ পেয়েছি বঙ্গবন্ধুর জন্য। ৭ মার্চের ভাষণে সমগ্র বাঙালিকে এক করেছিলেন তিনি। আমরা একটা স্বাধীন দেশ, পতাকা পেয়েছি তার জন্যই। বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান। আমাদের অনুপ্রেরণার নাম বঙ্গবন্ধু। তার অবদানের কথা জাতি কোনোদিন ভুলবে না। এমন মহান নেতা জাতির জন্য গর্বের। জাতির জনক বলতেই একটা পরিপূর্ণ মানুষের ছবি চোখের সামনে চলে আসে। খুব গর্ব সহকারে জাতির জনকের নাম উচ্চারিত হয় বুকের ভেতরে।

সাদি মোহাম্মদ

বঙ্গবন্ধু আমার কাছে আকাশের মতো। তার অসীমতার কোনো শেষ নেই। সবচেয়ে ভালো লাগে আমার বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন। তার জীবনদর্শন এত সহজ-সরল ছিল, যেটা সব মানুষের জীবনদর্শন হতে পারে। যদি এটুকু হয়, তাহলে সবাই দেশটাকে বড় ভালোবাসতে পারবে। সহজ জীবনযাপনে আমরা মানুষের সঙ্গে মিশতে পারব। মানুষকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধুকে কাছে পাব। বঙ্গবন্ধু মানুষকে ভালোবেসেছিলেন। নিঃস্বার্থভাবে মানুষ তাই তার কাছে এসেছিল। দেশের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার অসীমতা বঙ্গবন্ধুকে আকাশের মতো সীমাহীন করে তোলে। ভালোবাসি বঙ্গবন্ধুকে। তার জীবনদর্শনকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাই।

অমিতাভ রেজা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও প্রধান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার লেখা বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘আমার দেখা নয়াচীন’ আমার খুব প্রিয় তিনটি বই। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইদানীং অনেকেই লিখছেন এবং অধিকাংশ লেখাগুলোই চর্বিতচর্বণ। একজন নেতা হিসেবে তাকে বিশ্লেষণ করার মতো লেখা খুব কম আছে। আহমদ ছফার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি প্রবন্ধ আমার বেশ ভালো লেগেছে। যে কোনো মহৎ ব্যক্তিত্বকে বিশ্লেষণ করলে তার ভালো, খারাপ, সীমাবদ্ধতা, বিশালতা ও তার মহত্ত্ব সবকিছু মিলিয়েই বিশ্লেষণ করা উচিত। আমি বঙ্গবন্ধুকে সেভাবেই দেখি। বঙ্গবন্ধু তার সাহস, প্রজ্ঞা, সীমাবদ্ধতা সবকিছু নিয়েই এক মহান ব্যক্তিত্ব। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রচুর লেখা, সিনেমা ও সাংস্কৃতিক চর্চা হবে, সেটা একটি জাতির জন্য খুবই ভালো।

নুরুল আলম আতিক

বঙ্গবন্ধুকে আমার কাছে মনে হয় হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো। আমরা খুব যোদ্ধা জাতি বা খুব শক্তিশালী অবস্থানে ছিলাম না। ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে জাতিকে জাগ্রত করার যে প্রক্রিয়া, সেটা তিনি শুরু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই বাঙালি জাতি নিজেদের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিল এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। সমগ্র জাতিকে একত্রিত করা অনেক বড় একটা বিষয়। তিনি নিজেকে দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য যেভাবে উজাড় করে দিয়েছিলেন, তাতে তিনি আমার কাছে একজন মহানায়ক।

Stay updated on the go with The Daily Star Android & iOS News App. Click here to download it for your device.

Grameenphone and Robi:
Type START <space> BR and send SMS it to 2222

Banglalink:
Type START <space> BR and send SMS it to 2225

পাঠকের মন্তব্য

Top