১৫ এপ্রিল ১৯৭১: নিভৃতে কেটেছে বাংলা নববর্ষ, ভয়ে-আতঙ্কে ঢাকা ছাড়ে মানুষ | The Daily Star Bangla
০৪:০১ অপরাহ্ন, এপ্রিল ১৫, ২০২১ / সর্বশেষ সংশোধিত: ০৪:২২ অপরাহ্ন, এপ্রিল ১৫, ২০২১

মুক্তিযুদ্ধ

১৫ এপ্রিল ১৯৭১: নিভৃতে কেটেছে বাংলা নববর্ষ, ভয়ে-আতঙ্কে ঢাকা ছাড়ে মানুষ

আহমাদ ইশতিয়াক

১৯৭১ এর ১৫ এপ্রিল ছিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছিল ১৩৭৮ বঙ্গাব্দের সূচনা। এদিন দেশের মানুষ বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতে পারেনি। নিভৃতেই কেটে যায় বাংলা নববর্ষ।

নববর্ষের কোন আয়োজন ও অনুষ্ঠান না থাকায় স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের সদস্য কবি মুস্তফা আনোয়ার লিখেছিলেন ২১ লাইনের "বৈশাখের রুদ্র জামা" শিরোনামের একটি কবিতা। এই কবিতাটি প্রচার হয়েছিল স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে। কবি মুস্তফা আনোয়ারের ‘বৈশাখের রুদ্র জামা’ কবিতাটির প্রথম কটি লাইন এমন--

“বৈশাখের রুদ্র জামা আমাকে পরিয়ে দে মা

আমি তোর উজাড় ভাঁড়ারে বারুদের গন্ধ বুক ভরে নেব।

এখন তোর ভীষণ রোগ, গায়ে চুলো গন্ গন্ করছে,

আমাকে পুড়িয়ে দিলি মা।”

ছায়ানটের উদ্যোগে ঢাকার রমনা বটমূলে বাংলা নববর্ষ ১৩৭৮ বঙ্গাব্দের বর্ষবরণ হয়নি। তবে ছায়ানটের সভাপতি সন্‌জিদা খাতুন এদিন ঢাকার সাভারের একটি মাটির ঘরে রমনার বটমূল কল্পনা করে নিজের সন্তানদের নিয়ে গান গেয়ে পারিবারিকভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেন। তিনি বলেন, রমনায় পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান এবার হয়নি, তবে পহেলা বৈশাখ পালিত হবে না এটি তিনি নিজ কল্পনাতেও আনতে পারেননি।

১৫ এপ্রিল এক গোপন তারবার্তায় পাকিস্তানি হানাদারদের পূর্ব পাকিস্তানের কমান্ডার ইন চিফ আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী অভিযোগ করেন, "এ অঞ্চলে দায়িত্বভার নেয়ার পরপরই আমি অগণিত অভিযোগ শুনেছি। তন্মধ্যে লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ, নির্বিচারে লোকদেরকে হত্যা, রাষ্ট্রবিরোধী বিষয়ের উপাদান না থাকা স্বত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকায় সৈনিকদের অবস্থান অন্যতম। এছাড়াও ধর্ষণের বিষয়েও আমি অবগত হয়েছি। ১২ এপ্রিল দুই পূর্ব পাকিস্তানি মহিলাকে ধর্ষণ করা হয়েছে ও আরও দুইজনকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়।"

এদিন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ অস্থায়ী বাংলাদেশ  সরকারের কর্মকাণ্ড পরিচালনার লক্ষ্যে, দক্ষ প্রশাসনিক জনবলের খোঁজে এবং নবগঠিত সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেন এবং এই সম্পর্কিত কাজে ব্যস্ত দিন অতিবাহিত করেন।

১৫ এপ্রিল দুপুরে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতি রশিদুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ছাত্রদের সেনাবাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সমূলে ধ্বংস করার নির্দেশ দেন।

বিদেশি গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিবর্গের বিবৃতি

১৫ এপ্রিল নিউজিল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মার্শাল এক বার্তায় বলেন, ‘আমরা আশা ও প্রত্যাশা করি, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান অবিলম্বে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের চলমান গৃহযুদ্ধের অবসান করবেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর ওয়াল্টার মন্ডেল ও সিনেটর কেস যৌথভাবে পাকিস্তানে অর্থ সাহায্য বন্ধের জন্য মার্কিন সিনেটে ২১ নম্বর প্রস্তাব পেশ করেন।

এদিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র অস্ত্র সাহায্য সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, "গত অক্টোবরের ব্যতিক্রম ছাড়া পাকিস্তানে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।"

নিউইয়র্ক টাইমস-এ ১৫ এপ্রিল প্রকাশিত তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধারা আবার সংগঠিত হতে চেষ্টা করছেন।

এদিকে ভারত-পূর্ব পাকিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাকিস্তানি সেনা জমায়েত এবং উপর্যুপরি হামলায় পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে দিল্লির পাকিস্তান হাইকমিশনের কাছে ১৫ এপ্রিল ভারত কড়া প্রতিবাদ জানায়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ত্রিপুরা সীমান্তের কাছে সেনা সমাবেশ ঘটিয়ে পাকিস্তান ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের আক্রমণাত্মক কাজ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে যথোপযুক্ত নির্দেশ দেওয়ার জন্য ভারত আহ্বান জানিয়েছে।

কলকাতার ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকার বিশেষ সংবাদদাতা নয়াদিল্লি থেকে পাঠানো এক রিপোর্টে জানান, ভারত সরকারের কাছে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ শব্দের স্থান করে নিয়েছে ‘পূর্ববঙ্গ’। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রথম পাকিস্তান হাইকমিশনকে দেওয়া তাদের সরকারি নোটের সর্বত্র ‘পূর্ববঙ্গ’ কথাটি ব্যবহার করেছে। ভারতীয় ভূখণ্ডে  পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে নোটটি দেয়া হয়।

বিশ্বের শীর্ষ সংবাদ সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, "ঢাকা এখন মৃত্যুপুরী। সেনারা ঘরে ঘরে তল্লাশি চালাচ্ছে। তরুণদের নিয়ে যাচ্ছে আটক করে। রাস্তায় মানুষজনের উপস্থিতি এখন বিরল। অজস্র মানুষ এখনো তীব্র ভয় ও আতংকে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছেন। তবে যারা ঢাকা থেকে চলে যেতে চাইছেন তাদের পথে পথে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

ঢাকার বাইরের যুদ্ধ

১৯৭১ সালের ১৫ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদারেরা রাঙ্গামাটি শহরে এসে পৌঁছায়।

এদিন মুক্তিবাহিনীর কয়েকটি দল কাকিনা, পাটেশ্বরী ঘাট, রৌমারী সড়ক এবং ফুলবাড়ি থানায় অবস্থান নেন। এর আগের দিন ১৪ এপ্রিল হানাদার বাহিনীর আক্রমণে ভৈরবের পতন হয়। ভৈরবের পতনের পর হানাদার বাহিনী চারটি জেট বিমান, হেলিকপ্টারের বহর ও গানশিপ নিয়ে সমূলে আক্রমণ চালায় নিরীহ মানুষের ওপর। প্রাণ বাঁচাতে সহস্রাধিক মানুষ জড়ো হয় ভৈরব উপজেলার শিবপুরের আলগড়া খেয়াঘাটে। কেবল ব্রহ্মপুত্র নদ পার হওয়ার আগেই আধা ঘণ্টার ব্যবধানে গুলিতে শহীদ হন ৩৫০ জন। গণহত্যার পর লুট, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। বর্তমানের ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের  পানাউল্লাহিরচর এবং নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার সররাবাদ ইউনিয়নের আলগড়া এলাকায় এই নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। অন্যদিকে হানাদার বাহিনীর ভয়ে শহীদ স্বজনেরা শহীদদের দাফন করতে পারেননি। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ব্রহ্মপুত্র নদীর দুই পাড়ে গণকবর খুঁড়ে লাশ দাফন করা হয়েছিল।

এদিন সকালে পাবনার নগরবাড়ি ঘাটে হানাদার বাহিনী ফেরি থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের ওপর মর্টার শেল ছোঁড়ে। হানাদার বাহিনীর আচমকা এই আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অবস্থান থেকে ১০ কিলোমিটার পিছিয়ে বগুড়া মহাসড়কের ডাববাগান এলাকায় এসে অবস্থান নেন এবং হানাদারদের জন্য ত্রিমুখী ফাঁদ তৈরি করেন।

এদিন হানাদার বাহিনী চুয়াডাঙ্গায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। হানাদারদের এই হামলায় অসংখ্য নিরস্ত্র নিরীহ মানুষ শহীদ হন।

এদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে প্রবেশ করে। অন্যদিকে কলিমুল্লাহর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল চাঁদপুর ও চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থেকে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে অবস্থান নেন।

১৫ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদারেরা ১০টি ট্রাক ও ৮টি জিপে করে গুলি করতে করতে ঠাকুরগাঁও শহরে প্রবেশ করে। আতঙ্কে ঠাকুরগাঁওবাসী শহর ছাড়তে শুরু করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঠাকুরগাঁও শহর জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে।

এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর পূর্ব পাড়ে শাহবাজপুরের কাছে একটি প্রতিরক্ষা ব্যুহ রচনা করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা।

১৫ এপ্রিল বিকেলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে ঝিনাইদহের পতন ঘটে।

এদিন লেফটেন্যান্ট মাহফুজ খাগড়াছড়িতে মেজর জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করে সুবেদার খায়রুজ্জামান, করিম, ইঞ্জিনিয়ার ইসহাক, ফারুক আহম্মদ, শওকত আলী প্রমুখকে নিয়ে রাঙামাটি বুগিঘাট বাজারে আসেন ও অবস্থান নেন। এখান থেকে তারা পাকবাহিনীকে অতর্কিতে আক্রমণ করে ব্যতিব্যস্ত করে তোলেন। একই সময় চট্টগ্রামের রাজাঘাট এলাকা পাকিস্তানী হানাদারদের দখলে চলে যায়।

একই দিন মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি হানাদারদের কবল থেকে কুমিল্লার গঙ্গাসাগর পুনরুদ্ধার করে।

কয়েকদিন ধরে প্রতিরোধ যুদ্ধের পর মুক্তিবাহিনী রাজশাহী শহরের অবস্থান ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

ঢাকায় সামরিক শাসকেরা জনগণকে দ্রুত কর ও খাজনা পরিশোধের জন্য নির্দেশ দেয়।

পাকিস্তানের করাচিতে পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, "পাকিস্তান সরকার ন্যায়সঙ্গত কারণেই আওয়ামী লীগকে বেআইনি ঘোষণা করেছে।"

হানাদার বাহিনীর দালাল সংগঠন ‘নাগরিক শান্তি কমিটি’- তাদের  নাম পরিবর্তন করে ‘পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি’ রাখে।

দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকাতে ‘জনতা পাকিস্তান চায়’ শিরোনামের উপ-সম্পাদকীয়তে শান্তি কমিটির তৎপরতাকে দেশবাসীর চাহিদা হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, "দেশবাসী আজ দেশের শত্রু ও ভারতের দালালদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। পূর্ব-পাকিস্তানের মানুষ ও সাধারণ জনগণ কথিত বাংলাদেশ চায় না, তারা চায় পাকিস্তান অটুট থাকুক। ‘দেরিতে হলেও আমাদের সেনাবাহিনী ও শাসকগন সঠিক কাজটি করেছে।"

সংগ্রাম পত্রিকায় ছাপা উপসম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, "অবশেষে যেইমাত্র পাকিস্তান দিবসে জয় বাংলা পতাকা উত্তোলিত করে পাকিস্তানি পতাকা ও কায়েদের আযমের ছবি পদলেহন করে পোড়ানো হলো সেদিন সবার সম্বিত ফিরে এলো তারা কি চায়। এরপর আমাদের দেশের প্রিয় সেনাবাহিনী গোটা পূর্ব পাকিস্তান নিজেদের আয়ত্বে এনে ভারতীয় অনুপ্রবেশকারী ও দেশবিরোধী ভারতের দালালদের বন্দী করে  ধ্বংস ও বিতাড়িত করতে সমর্থ হয়েছিলো।’

এদিন দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট এজাজের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা সীতাকুণ্ড এলাকায় নাজিরহাট থেকে কয়েক মাইল দূরে উদালিয়া চা-বাগানে ঘাঁটি স্থাপন করে। মিরসরাইয়ে প্রচণ্ড যুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদারেরা চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে উদালিয়া চা-বাগানের কাছে আসলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। একপর্যায়ে পাকিস্তানি হানাদারদের ভারী অস্ত্র ও গোলাবারুদের সামনে টিকতে না পেরে মুক্তিবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা উদালিয়া চা-বাগানের ঘাঁটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান।

তথ্যসূত্র:

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (ত্রয়োদশ খণ্ড)

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: সেক্টর ভিত্তিক ইতিহাস, সেক্টর ১, ২, ৭ এবং ৮

আনন্দবাজার পত্রিকা ১৬ এপ্রিল ১৯৭১

দৈনিক পাকিস্তান ১৬ এপ্রিল ১৯৭১

আহমাদ ইশতিয়াক ahmadistiak1952@gmail.com

আরও পড়ুন-

১৩ এপ্রিল ১৯৭১: চারঘাট গণহত্যা ও ঘটনাবহুল একটি দিন

১২ এপ্রিল ১৯৭১: বালারখাইল গণহত্যা ও ঘটনাবহুল একটি দিন

১১ এপ্রিল, ১৯৭১: দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান তাজউদ্দীন আহমদের

১০ এপ্রিল: মুজিবনগর সরকার গঠন ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র দিবস

 

Stay updated on the go with The Daily Star Android & iOS News App. Click here to download it for your device.

Grameenphone and Robi:
Type START <space> BR and send SMS it to 2222

Banglalink:
Type START <space> BR and send SMS it to 2225

পাঠকের মন্তব্য

Top