যুগের পর যুগ ধরে অবহেলার এক চূড়ান্ত নিদর্শন ভাষা শহীদ আবদুস সালাম | The Daily Star Bangla
০৮:১০ অপরাহ্ন, এপ্রিল ০৭, ২০২১ / সর্বশেষ সংশোধিত: ০৮:২৮ অপরাহ্ন, এপ্রিল ০৭, ২০২১

যুগের পর যুগ ধরে অবহেলার এক চূড়ান্ত নিদর্শন ভাষা শহীদ আবদুস সালাম

আহমাদ ইশতিয়াক

ভাষা শহীদ আবদুস সালাম। ভাষা আন্দোলন হোক, কিংবা ভাষা শহীদদের কথা বলতে গেলে, লিখতে গেলে প্রথম যে ভাষা শহীদের কথা মনে আসে তিনি শহীদ আবদুস সালাম। যেমন- সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর। কিংবা সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউর। যেভাবেই লেখা হোক না কেন সবার আগে কেন যেন ভাষা শহীদ সালামের নামই আগে আসে। অথচ এই ভাষা শহীদের প্রতি আমরা আমাদের চূড়ান্ত অবহেলা, খামখেয়ালিপনা দেখিয়েছি।

তার কবর চিহ্নিত করতে আমাদের লেগেছে দীর্ঘ ৬৫টি বছর, তার স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে যেমন ব্যর্থ হয়েছি ঠিক তেমনভাবেই একটি ভুলের কারণে পরিবর্তন করেছি তার শহীদ হওয়ার তারিখ পর্যন্ত।

দিনের পর দিন আমরা জেনে এসেছি ভাষা শহীদ সালাম ‘৫২ এর ভাষা আন্দোলনে ২১ ফেব্রুয়ারি মিছিলে পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর আহত অবস্থায় ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। তারপর দীর্ঘ দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় অবশেষে ১৯৫২ সালের ৭ এপ্রিল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আদৌ কি তিনি ৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেছেন?

শহীদ সালামের ভাইয়ের বক্তব্য

‘ভাষা আন্দোলনের ৬৩ বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু আমার ভাই ভাষা শহীদ আবদুস সালামের কবরটা চিহ্নিত করতে পারেনি। তার রক্তমাখা শার্টটাও নিয়ে গেল এমপি খাজা আহমদ।  কোন স্মৃতিচিহ্নই তো ছিল না তার। আজিমপুর কবরস্থানের কোন পাশে তার কবর ছিল আমরা কেউই জানি না। আমার বয়স তখন খুব কম। সরকারও উদ্যোগ নেয়নি। নিলে কবর খুঁজে বের করা তো কঠিন না। কোন সরকারই পদক্ষেপ নিল না। গুলিতে আহত হওয়ার চার দিন পরে তিনি মারা যান,’ সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় আক্ষেপের গলায় বলেছিলেন ভাষা শহীদ আবদুস সালামের ভাই আবদুল করিম। শহীদ সালামের ভাই আবদুল করিমের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলাম ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে। ভাষা শহীদ সালামের  কবরটি চিহ্নিত হয়নি তখনও। সেই সাক্ষাৎকারটি নিতে গিয়ে বুঝেছিলাম আমাদের কতোখানি অবহেলা ছিল এই ভাষা শহীদের প্রতি।

প্রথমত দীর্ঘকাল তার কবর চিহ্নিত হয়নি, দ্বিতীয়ত আজ পর্যন্ত আমরা জেনেছি সরকারি গেজেটে তার শহীদ হওয়ার দিন ৭ এপ্রিল, তার বর্তমানে যে ছবিটি পাওয়া যায় তাও হাতে আঁকা। তার মূল তোলা ছবিটি তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য খাজা আহমেদ শহীদের পরিবার থেকে নিয়ে গিয়ে কী করেছেন তা জানে না কেউই।

আবদুস সালামের জন্ম ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালী জেলার ফেনী মহকুমার দাগনভুইয়ার মাতুভূঁইয়া ইউনিয়নের লক্ষণপুর গ্রামে (বর্তমানে ফেনী জেলার দাগনভুইয়া উপজেলার সালামনগর গ্রাম)। কৃষ্ণরামপুর স্কুলে প্রাথমিক এবং কলিমুল্লাহ মাইনর স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর আতাতুর্ক স্কুলে ভর্তি হলেন। দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় আর্থিক অনটনে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় তার। তারপর কাজের সন্ধানে তিনি চলে যান কলকাতায় বড় বোনের স্বামী আব্দুল কাদেরের কাছে।

মেটিয়াবুরুজে তার বড় বোনের স্বামী থাকতেন তখন, তিনিই কলকাতা বন্দরে কাজের ব্যবস্থা করে দিলেন তাকে। দেশভাগ হয়ে গেলে বোনের স্বামী ও তিনি ফিরে এলেন ঢাকায়। পিয়ন হিসেবে কাজ পেলেন তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ডিরেক্টর অব ইন্ডাস্ট্রিজ বিভাগে। নীলক্ষেত ব্যারাকের ৩৬/ বি নং কোয়ার্টারে তিনি থাকতেন।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অন্যান্য দিনের মতো নীলক্ষেতের বাসা থেকে অফিসে যাচ্ছিলেন আবদুস সালাম। সেদিন অফিসে যাওয়ার সময় তিনি দেখেন আমবাগানের সামনে ছাত্রদের বিশাল জটলা। তিনি সাইকেল থামিয়ে মিছিলে যোগ দেন। তার ভাই আব্দুল করিম বললেন, ‘ভাই তো আগের থেকে ছাত্র আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। আমার  জ্যাঠাতো ভাইয়ের মুখে শোনা, তিনি নাকি মিছিলের সামনে ছিলেন। যখন পুলিশ গুলি করল তিনি পড়ে গেলেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হলো।’

আপনারা সালামের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর কয়দিন পরে জানলেন?- প্রশ্ন করেছিলাম আব্দুল করিমকে।

‘আমরা জানলাম যেদিন গুলি লেগেছে সেদিন রাতে।  হাবিবুল্লাহ নামে আমার এক জ্যাঠাতো ভাই তাকে মেডিকেলে নিয়ে যান। পরে বাড়িতে খবর পাঠানো হয়। বাড়ি থেকে আব্বা, জ্যাঠা আরও দুই তিনজন ঢাকা যান। আমার আম্মা যাননি। তিনি বাড়িতে ছিলেন, তবে মিছিলে ভাইয়ের গায়ে গুলি লেগেছে এটা শোনানো হয়নি তাকে। নয়তো ভেঙ্গে পড়তেন।’

তিনি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে পুলিশের অতর্কিত গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন সালামসহ অন্যান্য ভাষা শহীদ ও সংগ্রামীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় সালামকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সালামের পরিচিতদের মধ্যে এই খবর প্রথম পেয়েছিলেন সালামের ভাতিজা মকবুল আহমেদ ধনা মিয়া। নীলক্ষেতে সালামের বাসার গৃহকর্মীর ছেলে জানিয়েছিলেন মকবুলকে যে তার চাচা মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ খবর শুনে মকবুল দ্রুত যান তার জ্যাঠা হাবিব উল্লাহর কাছে। হাবিব উল্লাহ খবর শুনেই মকবুলসহ দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে যান।  ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে তারা দেখেন পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় সালাম পড়ে আছেন ঢাকা মেডিকেলের বারান্দায়। এরপর তারা চিকিৎসককে ডাকার ব্যবস্থা করলেও কোন চিকিৎসকই সাড়া দিচ্ছিল না।  সন্ধ্যার সময় হাবিবুল্লাহ সালামের বাবাকে টেলিগ্রাম লিখে পাঠান তাকে জলদি ঢাকা আসতে বলে। টেলিগ্রাম পেয়েই পরদিন সকালে হাসপাতালে ছুটে আসেন সালামের বাবা ফাজিল মিয়া। সঙ্গে ছিল সালামের ছোট ভাই। সেদিন সকাল নয়টার দিকে ছাত্ররা হাসপাতালে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে সালামকে যথাযথ চিকিৎসা না দেয়ার অভিযোগে। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার হাবিবউল্লাহ ও মকবুল আসা যাওয়ার মধ্যে থাকলেও ছেলের পাশ থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরেননি সালামের বাবা। আহত অবস্থায় সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন তার বাবা। একসময় তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার সময় বাবার সামনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন শহীদ সালাম।

২৬ ফেব্রুয়ারি শহীদ সালামের লাশ নিয়ে যাওয়া হয় আজিমপুর কবস্থানে। সেখানে তার বাবা, ভাতিজা, জ্যাঠাতো ভাই ও  ছোট ভাইসহ শত মানুষের উপস্থিতিতে তাকে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানের ওজুখানার উত্তর-পূর্ব পাশের তিন নম্বর সারিতে সে সময় একটি বিশাল আমগাছ ছিল বলে জানিয়েছেন কবরস্থানের সাবেক জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান। যিনি  ১৯৮০ সাল থেকে ওই কবরস্থানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯০ সালে সে আমগাছ কেটে ফেলা হয়। ২০১৫ সালে আবদুল করিমের সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় শহীদ সালামের কবর তখনও চিহ্নিত হয়নি। কবরের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম আব্দুল করিমের কাছে।

তিনি বলেছিলেন, ভাইকে কবর দেওয়া হয়েছে আজিমপুর কবরস্থানে। তার কবরটা কোথায় আমাদের মনে নেই। আর আগে উদ্যোগও কেউ নেয়নি। এখন তো ধরেন অনেক কবর হয়েছে। একটা কবর দু'মাসও থাকে না। আগে তো মানুষও কম ছিল। কিন্তু এখন মানুষ অনেক বেশি। এক কবরের ওপর কত কবর হয়! আগে ঠিকভাবে রাখলে আজ এমনটি হতো না। আর এখন যেভাবে গুরুত্ব দিয়েছিল আগে এমনটি দিলে কবর ঠিকই থাকতো। আর তখন তো পাকিস্তান আমল, এমনিতেই সবার মধ্যে একটা ভয়। এখন যতোটা গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়, তখন তো এটা কেউ চিন্তাও করতে পারতো না।’ 

‘আব্বা চিনতেন। আমি নিজেও ছোটবেলায় কয়েকবার গিয়েছি। তবে পুরোপুরি মনে নেই। কবর জেয়ারতও করেছি। আব্বার সাথে ছিলাম। আমরা চারপাশে বেড়া দিয়েছিলাম। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তা আর থাকেনি। ভাষা আন্দোলনের ব্যাপার তো প্রথমে এমনটি ছিল না। আর তখন শহীদদের ব্যাপারে এরকম গুরুত্ব দেয়নি,’ বলেন আব্দুল করিম।

জিজ্ঞেস করলাম 'আপনি তো কবরে গিয়েছেন। আপনার কিছুটা হলেও স্মৃতি থাকতে পারে, মনে পড়ে?  সম্ভাব্য কোথায় হতে পারে?'

জবাবে আব্দুল করিম বলেছিলেন, ‘যতোটুকু মনে পড়ে কবর ছিল ঢুকতে ডান পাশে। বরকতের কবরের পাশে। নামাজ ঘরের একপাশে। ওখানে একটি খালি জায়গা ছিল ওটার মাঝে। খালি জায়গাটা চিহ্নিত করলে পেতে পারে।’

এই সাক্ষাৎকার নেয়ার প্রায় দুবছর পর শহীদ সালামের কবর চিহ্নিত হয়েছিল ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। জাতি হিসেবে আমরা কতোটা অবহেলাপ্রবণ ও ভুলোমনা যে একজন ভাষা শহীদের কেবল কবর শনাক্ত করতেই আমাদের ৬৫ বছর লেগেছিল।

সালামের শহীদ হওয়ার তারিখ কেন ৭ এপ্রিল হলো?

ভাষা শহীদ সালামের ভাই আব্দুল করিম জানিয়েছিলেন গুলিতে আহত হওয়ার চার দিন পর তার ভাই শহীদ হন। তবে ২০০০ সালে বাংলাদেশ সরকার ভাষা শহীদ আবদুস সালামকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে। সেই একুশে পদকের গেজেট প্রকাশের সময়ই ভুলবশত ২৫ ফেব্রুয়ারির বদলে লেখা হয়েছিল ৭ এপ্রিল। এরপর থেকে চূড়ান্ত বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে প্রায়  সমস্ত জায়গায় যাচাই না করে ২৫ ফেব্রুয়ারির বদলে ৭ এপ্রিল লেখা হয়। সরকারি গেজেটে পুনঃ সংশোধন আর করা হয়নি।

শহীদ সালামের ছবি কীভাবে এলো?

১৯৯৯ সালের আগ পযন্ত ভাষা শহীদ সালামের ছবি কোথাও সংরক্ষিত ছিল না। তার পরিবার জানিয়েছে, ষাটের দশকে ফেনীর তৎকালীন স্থানীয় সংসদ জনাব খাজা আহমদ শহীদ আবদুস সালামের পিতা ফাজিল মিয়ার কাছ থেকে শহীদ সালামের গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত শার্ট ও তার দুটি আলোকচিত্র জাতীয় জাদুঘরে দেবেন বলে নিয়ে যান। পরে তিনি শহীদ সালামের রক্তাক্ত শার্ট ও ছবিটি কী করেছেন তা আজও অজানা।

বর্তমানে শহীদ আব্দুস সালামের যে ছবিটি দেখা যায় সে ছবিটি ভাস্কর রাশার উদ্যোগে চিত্রশিল্পী শাহজাহান আহমেদ বিকাশের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এই ছবি করতে গিয়েও বহু কাঠখড় পুড়তে হয়েছিল রাশাকে।  ১৯৮৩ সালে তিনি প্রথম জানতে পারেন ভাষা শহীদ আবদুস সালামের কোন ছবি নেই। এ কথার সত্যতা প্রমাণ করার জন্য শহীদ সালামের পরিবার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তখন তিনি যোগাযোগ করেছিলেন। তারপর থেকে তিনি চিন্তা করতে থাকেন কীভাবে শহীদ সালামের ছবি আনা যায়।

এভাবে বেশ কিছু সময় চলে যায়। ১৯৯০ সালে তার ছবি জোগাড়ের চেষ্টা অর্থনৈতিক কারণে পিছিয়ে যায়। ১৯৯৯ সালে একটি প্রামাণ্য চিত্রের পরিকল্পনা করে তিনি তৎকালীন সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন ভাস্কর রাশা। তার উৎসাহ ও অর্থায়ণে ভাস্কর রাশা “অস্তিত্বের শেকড়ে আলো” শিরোনামে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে এগিয়ে এলেন।  এ কাজে ভাস্কর রাশার অন্যতম সহযোগী ছিলেন সহকারী পরিচালক রানা সিদ্দিকী এবং স্থানীয় প্রতিনিধি শিমুল ও সমীর।

যোগাযোগ বিষয়ক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ‘স্বপ্ন দশীর’ মাধ্যমে টি,এস,সি সুইমিং পুল এলাকায় ছবি আকার অনুমতি মিলেছিল। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় এই আয়োজন করা হয়েছিল। সালামের ছবি আঁকার জন্য ভাষা শহীদ সালামের দুই ভাই ও এক বোনকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল।  ১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুলের পাড়ে  শহীদের ভাই-বোনদের বর্ণনা শুনে ছবি আঁকা শুরু হয় এবং দিনব্যাপি এই ছবি আঁকা চলেছিলো।

এ ধরনের কর্মসূচি বাংলাদেশে এটিই প্রথম ছিল। এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেছিলেন ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন। শহীদ সালামের বোন বলকিয়ত নেছা তার ভাই শহীদ সালামের চেহারার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন- ‘আমরা ভাই বোনের মধ্যে সালামের গায়ের রঙ ছিল বেশ ফর্সা। ছোট বেলায় স্থানীয় মসজিদে পড়তে গিয়ে তিনি মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলেন ফলে তার কপাল কেটে গিয়েছিল। সেই কাটা দাগটি তার চেহারার একটি বিশেষ চিহ্ন হিসাবে থেকে যায়।’  যখন আব্দুস সালাম শহীদ হন তখন তার বয়স হয়েছিল ২৭ বছর।

শহীদ আব্দুস সালামের ভাই বোনের বর্ণনা মতে শিল্পীরা তার ছবি আঁকতে শুরু করেছিলেন। এই ছবি আঁকার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী অলোকেশ ঘোষ,  আব্দুল মান্নান, শেখ আফজাল, আহমেদ সামছুদ্দোহা, শাহজাহান আহমেদ বিকাশসহ বেশ কজন শিল্পী।

সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ছবি আঁকা চলে।  ছবি আঁকা শেষ হলে শিল্পী শাহজাহান আহমেদ বিকাশের তৈলচিত্রটির সঙ্গে হুবহু সালামের চেহারার মিল পেয়েছিলেন সালামের ভাইবোনেরা।  ভাষা শহীদ আব্দুস সালামের প্রতিকৃতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। শিল্পী শাহজাহান আহমেদ বিকাশ বললেন, ‘ঐ দিন ছবি আঁকার শেষে যে ছবিটির পাশে চিৎকার দিয়ে বলে উঠলেন সালামের ছোট ভাই সে ছবিটি ছিল আমার আঁকা ছবি। আমার জীবনের একটি শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি যে আমি একজন ভাষা শহীদের চেহারা আবার মানুষের সামনে তুলে আনতে পেরেছি।’   ভাস্কর রাশা ও খন্দকার জামিলউদ্দিন পরবর্তীতে ছবিটি জাতীয় যাদুঘরে ছবিটি দান করেন।

ভাষা শহীদ সালাম শহীদ হয়েছিলেন ১৯৫২ এর ২৫ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু এক গেজেটে ভুলের কারণে আজ সর্বত্র তার শহীদ হওয়ার দিন লেখা হয় ৭ এপ্রিল। এই দায় কার? একজন ভাষা শহীদের কবর চিহ্নিত করতে আমাদের ৬৫ বছর লেগেছিল, ২০০০ সালের আগ পর্যন্ত তার শহীদ হওয়ার দিন ছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি, যা পরিবর্তন হয়ে গেল এক গেজেটে। তার স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করতেও চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছিলাম আমরা। একজন ভাষা শহীদের প্রতি আর কতোটা অবহেলা প্রদর্শন করলে আমরা ক্ষান্ত হবো?

তথ্যসূত্র-

বিশ্ব তোরণে বাংলা/ যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত ম্যাগাজিন

ভাষা শহীদ সালামের ভাই আবদুল করিমের সাক্ষাৎকার/ আহমাদ ইশতিয়াক

আহমাদ ইশতিয়াক ahmadistiak1952@gmail.com

আরও পড়ুন-

সাহিত্যে আবুল মনসুর আহমেদ আজও প্রাসঙ্গিক

মেঘ ছাপিয়ে যাওয়া এক স্বপ্নবান স্থপতি ফজলুর রহমান খান

এক দুঃসাহসী মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিবেটি কাঁকন হেনইঞ্চিতা

‘যদি চলেও যাই, কোনো আক্ষেপ নিয়ে যাব না’

স্বাধীনতাই একমাত্র গন্তব্য পূর্ব পাকিস্তানের: মওলানা ভাসানী

যার ওভারকোটের পকেট থেকে বেরিয়েছিল আধুনিক রুশ সাহিত্য আর সাহিত্যিকেরা

Stay updated on the go with The Daily Star Android & iOS News App. Click here to download it for your device.

Grameenphone and Robi:
Type START <space> BR and send SMS it to 2222

Banglalink:
Type START <space> BR and send SMS it to 2225

পাঠকের মন্তব্য

Top