পুলিশে ‘নির্বাচনী পদোন্নতি’ | The Daily Star Bangla
১২:৪৮ অপরাহ্ন, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮ / সর্বশেষ সংশোধিত: ১০:০৯ অপরাহ্ন, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮

পুলিশে ‘নির্বাচনী পদোন্নতি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সুপারকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে উন্নীত করার জন্যে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।

যেহেতু পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন স্তরে কোনো পদ ফাঁকা নেই বলে ব্রিটিশ আমলের প্রশাসনিক নিয়ম মেনে তারা একটি ‘ইন-সিটু’ সমাধানের কথা ভাবছেন। এমন অবস্থায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা পদোন্নতি পেলেও একই কার্যালয়ে একই দায়িত্ব পালন করবেন।

গত ৪ জুলাই পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, বিভাগের ওপরের স্তরে অনেকদিন কোনো পদ সৃষ্টি না হওয়ায় ‘যোগ্য কর্মকর্তারা’ একই পদে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

তবে প্রস্তাবে ‘ইন-সিটু’ পদোন্নতির পরিবর্তে ‘অতিরিক্ত পদোন্নতি’-র কথা বলা হয়েছে।

প্রশাসনে কয়েক দফা পদোন্নতির প্রেক্ষাপটে পুলিশ বিভাগ থেকে এমন দাবি করা হয়েছে।

গত ২০১৬ সালে ১২০ পদের বিপরীতে ৪১৬ জনকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, ৩৫০ পদের বিপরীতে ৯০৮ জনকে যুগ্মসচিব করা হয়েছে এবং ৮৩০ পদের বিপরীতে এক হাজার ৩০১ জনকে উপসচিব করা হয়েছে। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের অধিকাংশকেই ‘ইন-সিটু’ অবস্থায় রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর কয়েকদিন পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের সঙ্গে দেখা করেন। মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রী তাদের দাবিকে যৌক্তিক বলে মেনে নিয়েছেন।

গত ১২ জুলাই এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে। কমিটি প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে দেখে তা বাস্তবায়নের পথ খুঁজে বের করবে। তবে কমিটি এখনো কোন প্রতিবেদন দাখিল করেনি।

কমিটির অন্যতম সদস্য এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব কামরুল আহসান তালুকদার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, “জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে আসা যাবে।”


police

প্রস্তাবে রয়েছে, পুলিশ সদরদপ্তর চায় যে ১১ জন অতিরিক্ত আইজি-কে গ্রেড-১ এ পদোন্নতি দেওয়া হোক। এছাড়াও, ৪২ অতিরিক্ত আইজি-কে গ্রেড-২, ৪৬ ডিআইজি-কে গ্রেড-৩, ৮৩ অতিরিক্ত ডিআইজি-কে গ্রেড-৪ এবং ৩১৩ জন এসপিকে গ্রেড-৫ এ উন্নীত করা হোক।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, “অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে তুলনা করলে পুলিশ বিভাগের ওপরের স্তরে কম পদ থাকায় অনেকে কাজে আগ্রহ পারছেন না। এমনকি, বিভাগের কর্মকর্তাদের মনোবল, আত্মমর্যাদা, শৃঙ্খলা এবং কাজের গতিতেও বাধা সৃষ্টি করছে।”

গত আগস্টে চারজন এআইজি-কে গ্রেড-১-এ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে আইজি পদটি গ্রেড-১ কর্মকর্তার পদ। এটি একজন জ্যেষ্ঠ সচিবের পদের সমান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব একজন পূর্ণ সচিবের মর্যাদা পান। প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্র জানায়, এ নিয়ে অনেক অ্যাডমিন কর্মকর্তা তাদের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন।

১৯৮৪ এবং ১৯৮৫ বিসিএস ব্যাচের ১১ কর্মকর্তা গত ৩০ বছর থেকে পুলিশ বিভাগে রয়েছেন কিন্তু তাদেরকে এখনো গ্রেড-১ এ পদোন্নতি দেওয়া হয়নি।

প্রস্তাব মতে, এছাড়াও, ৪২ ডিআইজি যারা ১৯৯১, ১৯৮৯ এবং ১৯৮৫ বিসিএস পরীক্ষায় পাশ করে পুলিশে যোগ দিয়েছিলেন তারাও ২৭ থেকে ৩০ বছর এই সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন কিন্তু তাদেরকে গ্রেড-২ এ পদোন্নতি দেওয়া হয়নি।

বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানায় যায়, তারা দীর্ঘদিন থেকে পদোন্নতির আশায় রয়েছেন। তারা বলেন, যদি আসন্ন নির্বাচনের আগে তাদের দাবি মেটানো না হয় তাহলে তা আরও দেরি হয়ে যাবে।

২৪ তম বিসিএস এর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমি পুলিশে যোগ দিয়েছি প্রায় ১৪ বছর হয়ে গেছে কিন্তু আমি এখনো এএসপি হিসেবেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, ২০০৫ সালে ২০৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৯১ জন তার সঙ্গে পুলিশে যোগ দিয়েছিলেন এএসপি হিসেবে এবং তাদেরও কোনো পদোন্নতি হয়নি।

অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমার জন্যে পদোন্নতি এখন একটি আত্মমর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা, আমি দীর্ঘদিন থেকে এএসপি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।”

“আমি যদি অন্তত অতিরিক্ত হিসেবেও এসপি পদে পদোন্নতি পাই তাহলেও আমি নিজেকে এসপি হিসেবে পরিচয় দিতে পারবো,” যোগ করেন তিনি।

Stay updated on the go with The Daily Star Android & iOS News App. Click here to download it for your device.

Grameenphone and Robi:
Type START <space> BR and send SMS it to 2222

Banglalink:
Type START <space> BR and send SMS it to 2225

পাঠকের মন্তব্য

Top