জাতির কথাশিল্পী শওকত ওসমান | The Daily Star Bangla
১০:১৫ অপরাহ্ন, মে ১৪, ২০২১ / সর্বশেষ সংশোধিত: ১০:২৮ অপরাহ্ন, মে ১৪, ২০২১

সাহিত্য

জাতির কথাশিল্পী শওকত ওসমান

আহমাদ ইশতিয়াক

‘জাতির কথাশিল্পী’ বলা হয় তাকে। হুমায়ুন আজাদ লিখেছিলেন ‘অগ্রবর্তী আধুনিক মানুষ’। বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে একপ্রকার বিপ্লব ঘটিয়েছেন তিনি। মুক্তবাক আর সমাজের চলতি ধারাকে যিনি উঠিয়ে এনেছেন সাহিত্যে। নিজেকে তিনি পরিচয় দিতেন ‘ঝাড়ুদার’ বলে। আসলেই তো ঝাড়ুদার তিনি, সমাজের ঝাড়ুদার। সমাজের সব জঞ্জাল, অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। তার আধুনিক আর বাস্তবধর্মী লেখনি সমাজের কথা বলতো। তিনি নির্দ্বিধায় বলতেন সত্য আর সুন্দরের কথা। তাকে কেবল সাহিত্যিক হিসেবে পরিচয় দিলেই হবে না, বলা যায় পূর্ণ সমাজ সংস্কারক। প্রথম জীবনে তাকে দারিদ্র্যতার সঙ্গে সংগ্রাম করে উঠে আসতে হয়েছিল। তিনি কিংবদন্তী সাহিত্যিক শওকত ওসমান।

শওকত ওসমানের জন্ম ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি, পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে। তার পারিবারিক নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।

শওকত ওসমানের বাবা শেখ মোহাম্মদ ইয়াহিয়া ও মা গুলজান বেগম। বাবা ছিলেন বর্গাচাষি। সাত ভাই-বোনের মধ্যে শওকত ওসমান ছিলেন সবার বড়। তাদের পরিবার ছিল নিম্নবিত্ত। জন্মের পর থেকে দরিদ্রতা দেখেছেন। এই দারিদ্র্যতার মধ্যেই তার বেড়ে ওঠা। পাঁচ বছর বয়সে শওকত ওসমানের বাল্য শিক্ষা শুরু হয় সবল সিংহপুর গ্রামের মক্তবে। সেখানে কিছুদিন পড়ে নন্দনপুরের রূপচাঁদ গুপ্ত একাডেমীতে শিশু শ্রেণিতে ভর্তি হন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতায় পড়াশোনা চালাতে ভীষণ বেগ পেতে হয় তাকে। 

১৯২৬ সালে শওকত ওসমানকে ভর্তি করানো হয় সবল সিংহপুর গ্রামের জুনিয়র মাদ্রাসায়। সেখানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় একদিন মাদ্রাসার শিক্ষক ক্লাসের এক ফাঁকে বলেছিলেন, ‘সব কিছুরই খোদা আছে, মানুষও একটি জীব তারও খোদা আছে।’

তখন শওকত ওসমান শিক্ষককে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আচ্ছা হুজুর, আমাদের সেই খোদাকে কে সৃষ্টি করেছেন?’ তখন সেই শিক্ষক কিছুক্ষণের জন্য স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন। মারতে গিয়েও কী ভেবে যেন মারেননি। মুক্তচিন্তার কারণে সেই বয়স থেকেই তাকে আজীবন লড়াই করতে হয়েছিল।

১৯৩৩ সালে ১৬ বছর বয়সে সবল সিংহপুর জুনিয়র মাদ্রাসা থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায়। পরিবারে তখনও ভীষণ অনটন। তার মা তাকে নিজের গয়না তুলে দিয়েছিলেন পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য। কিছুদিন পর ১৯৩৪ সালে আলিয়া মাদ্রাসা ছেড়ে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হন শওকত ওসমান। এরপর ১৯৩৫ সালে এফ.এ. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েরই বাংলা বিভাগে আবার ভর্তি হন। সেখান থেকে বাংলায় এম.এ. ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৪১ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজে প্রভাষক পদে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন শওকত ওসমান।

কর্মজীবনের শুরুতে কিছুদিন কলকাতার একটি স্কুলেও শিক্ষকতা করেছিলেন শওকত ওসমান। সেখানে প্রখ্যাত অভিনেতা উত্তম কুমারকে পেয়েছিলেন ছাত্র হিসেবে। ১৯৪৪ সালে গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজে থাকাকালীন প্রকাশিত হয় শওকত ওসমানের প্রথম গ্রন্থ শিশুতোষ সাহিত্য ‘ওটেন সাহেবের বাংলো’।

তিনি গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজে কর্মরত থাকাকালীন দেশভাগ হয়। তখন সবাইকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল যেকোনো একটি দেশ বেছে নেওয়ার। শওকত ওসমান বেছে নিলেন পূর্ব পাকিস্তান। পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে এলেন পূর্ব পাকিস্তানে। যোগ দিলেন চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে। ১৯৪৯ সালে তিনি রচনা করেন তার প্রথম নাটক ‘আমলার মামলা’। ১৯৪৮ সালে শওকত ওসমানের অনুদিত গ্রন্থ ‘লুকনিতশি’ প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯৪৮-৪৯ সালে শওকত ওসমান অনুবাদ করেন ’নিশো’। যেটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে। তখন শওকত ওসমান দোর্দণ্ড প্রতাপে গল্প লিখে চলেছেন সাহিত্য সাময়িকী ও সাপ্তাহিক পত্রিকায়। শওকত ওসমানের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প’ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে। এর পরের বছর তিনি অনুবাদ করেন একটি অনবদ্য নাটক। অনূদিত নাটকটির নাম ‘বাগদারের কবি’। ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয় শওকত ওসমানের শিশুতোষ গ্রন্থ ‘মস্কুইটো ফোন’।

১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয় শওকত ওসমানের বিখ্যাত উপন্যাস ‘জননী’। এই উপন্যাসের মধ্য দিয়েই ঔপন্যাসিক হিসেবে আবির্ভাব হয়েছিল শওকত ওসমানের। যেখানে খুব সহজ-সরল ভাষায় বাংলার গ্রামের চিরায়ত চিত্রকে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন শওকত ওসমান। যেখানে দেখা যায় জননী দরিয়াবিবি যেন বাংলার সকল মায়ের মাতৃরূপে উপন্যাসে প্রতিনিধিত্ব করেছে। মোনাদির ও আমজাদসহ দরিয়াবিবির সন্তানদের প্রতি তার মমতা এই উপন্যাসকে অনবদ্য করে তুলেছে। সে বছরই অধ্যাপক হিসেবে ঢাকা কলেজে যোগ দিয়েছিলেন শওকত ওসমান। এর পরের বছর প্রকাশিত হয় শওকত ওসমান অনূদিত গ্রন্থ ‘টাইম মেশিন’। একই বছর প্রকাশিত হয়েছিল শওকত ওসমানের আরেক অনূদিত গ্রন্থ। ‘পাঁচটি কাহিনী’ নামের এই মূল গ্রন্থটি ছিল রুশ সাহিত্য সম্রাট লিও তলস্তয়ের।

১৯৬২ সালে শওকত ওসমান লিখেছিলেন তার সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস ‘ক্রীতদাসের হাসি’। যেটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৩ সালে।  ক্রীতদাসের হাসি ছিল মূলত আইয়ুব খানের স্বৈরাচার ও সামরিক শাসনের বর্বর শাসন ও বাক স্বাধীনতার হরণের জঘন্য চরিতার্থ নিয়মের বিরুদ্ধে এক শক্ত চপেটাঘাত। মূলত স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের শাসনব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করে এ উপন্যাস লেখা হয়। যে উপন্যাসের মূল চরিত্র তাতারী। দেখা যায়, গণতান্ত্রিক চেতনাকে ভয় পায় স্বৈরাচারী শাসক। এই চেতনাকে দমন করার জন্যই আবার নেমে আসে সামরিক শাসন, তবুও লেখকের প্রতিবাদ স্তব্ধ থাকেনি। রূপকের মধ্য দিয়ে তীব্র হয়ে উঠে এই প্রতিবাদ। প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’র তাতারী। খলিফা হারুনুর রশীদ কোনো কিছুর বিনিময়েই তাতারীর হাসি শুনতে পান না। খলিফার নির্দেশে হাসার চেয়ে মৃত্যুকে শ্রেয় মনে করেছেন তাতারী। খলিফা হারুনুর রশিদের রূপকের আড়ালে আসলে আইয়ুব খানকেই ফুটিয়ে তুলেছেন শওকত ওসমান। সে বছরই বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলা একাডেমী পুরস্কার পেয়েছিলেন শওকত ওসমান।

১৯৬৫ সালে শওকত ওসমান অনুবাদ করেন ‘স্পেনের ছোটগল্প’। এর দুই বছর পরে প্রকাশিত হলো তার অসামান্য উপন্যাস ‘সমাগম’। তার কয়েক মাস পর প্রকাশিত হয় আরেক উপন্যাস ‘চৌরসন্ধি’।

শওকত ওসমানের হাত থেকে এরপর একে একে জন্ম নিয়েছে ‘রাজা উপাখ্যান’, ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ , ‘দুই সৈনিক’, ‘নেকড়ে অরণ্য’, ‘পতঙ্গ পিঞ্জর’, ‘আর্তনাদ’, ‘রাজপুরুষ’, ‘জলাঙ্গী’, ‘বনী আদম’, ‘রাজসাক্ষী’ ও ‘বেড়ী’র মতো উপন্যাস।

ঠিক তেমনই ‘মনিব ও তাহার কুকুর’, ‘ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী’, ‘প্রস্তর ফলক’, ‘সাবেক কাহিনী’, ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’, ‘পুরাতন খঞ্জর’, ‘বিগত কালের গল্প’, ‘নেত্রপথ’, ‘উভশৃঙ্গ’, ‘পিজরাপোল’, কিংবা ‘উপলক্ষ’র মতো বিখ্যাত সব গল্পগ্রন্থ।

ঢাকা কলেজে থাকা অবস্থায় শওকত ওসমান ক্লাসে পাঠ্যবই পড়ান না বলে একবার ছাত্ররা অভিযোগ করতে গেলেন সেই সময়ের জাঁদরেল অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন আহমদের কাছে। অভিযোগ শুনে জালালউদ্দিন আহমদ বললেন, ‘শওকত ওসমানকে এই কলেজে রাখা হয়েছে পড়ানোর জন্য নয়। পড়ানোর জন্য অন্য শিক্ষকেরা আছেন। শওকত ওসমান এই কলেজে আছেন এটাই তো আমাদের গৌরবের।’ অথচ সেই অধ্যক্ষের সঙ্গে শওকত ওসমানের মতের মিল ছিল না।

শওকত ওসমান তার ছাত্রদের মধ্যে জ্ঞানপিপাসা ও জ্ঞান জিজ্ঞাসা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। শ্রেণীকক্ষে এসে পাঠ্যবই টেবিলে রেখে বিশ্বসাহিত্য সম্পর্কে বলতেন। শেক্সপিয়ার, বায়রন, মিলটন, তলস্তয়, গোর্কি, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের জীবনসাহিত্য নিয়ে বলতেন।   বলতেন, ‘এখন তোমাদের যৌবনকাল, এখনই বিদ্রোহ করার বয়স। এখনই সবকিছু ভেঙে ফেলার ও জয় করার সময়। এ সময়কে পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতে বন্দি রেখো না।’

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছিলেন শওকত ওসমান। এই যে বারবার পেশা পরিবর্তন, কর্মস্থল পরিবর্তন—শওকত ওসমানকে তাঁর সাহিত্যসাধনা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তিনি যেখানে যে অবস্থায়ই থাকুন না কেন, প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু লিখতেন। শওকত ওসমান মানুষের কথা বলেছেন, বলেছেন সংস্কৃতি ও সমাজের নানান রূপরেখার কথা। নির্দ্বিধায় দিয়েছেন সাহিত্য ও ভাষা নিয়ে তার মতামত। তার চিন্তার গভীরতা ছিল অসামান্য। তিনি যে কতটা উঁচুমানের প্রাবন্ধিক ছিলেন, তা বোঝা যায় তার প্রকাশিত ‘ভাব ভাষা ভাবনা’, ‘সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই’ ও ‘মুসলিম মানসের রূপান্তর’ প্রবন্ধ সংকলনে। যেখানে তিনি তুলে এনেছেন ভাবনার দুয়ার, চিন্তার মনোজগৎ।

শওকত ওসমান ছিলেন পুরোপুরি আধুনিক লেখক। তিনি চাইতেন বাঙালি মুসলমান সমাজ কুসংস্কার, কূপমণ্ডূকতা থেকে বেরিয়ে আসুক। জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক। ধর্মান্ধতা ভীষণ অপছন্দ করতেন তিনি।

শওকত ওসমান একাধারে ছিলেন ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, কবি, প্রাবন্ধিক, শিশু সাহিত্যিক ও অনুবাদক। সাহিত্যের সমস্ত স্তরে দোর্দণ্ড বিচরণ ছিল তার। এত বড় মাপের একজন সাহিত্যিক হয়েও তরুণ সাহিত্যিকদের প্রতি তার ছিল প্রশ্রয় আর অগাধ স্নেহ। তিনি  তরুণ সাহিত্যিকদের পরামর্শ দিতেন, দিনে অন্তত আধা ঘণ্টার জন্য হলেও লেখার টেবিলে বসতে। বহু প্রখ্যাত সাহিত্যিক উঠে এসেছেন তার হাত ধরে।

শওকত ওসমান ছিলেন বিজ্ঞানমনস্ক। তিনি প্রায়ই আক্ষেপ করে বলতেন, ‘আমেরিকানরা যখন রকেটে চড়ে চন্দ্রপৃষ্ঠে পা দিয়েছে, তখনো আমাদের দেশের গরিব রিকশাচালক ভারবাহী পশুর ন্যায় অন্য মানুষকে কাঁধে বয়ে বেড়াচ্ছে। তারপরেও আমাদের চৈতন্যোদয় হলো না।’

শওকত ওসমান লিখেছিলেন লেখকের ভূমিকা নিয়েও। তিনি লিখেছিলেন, ‘লেখকের ভূমিকা নান্দনিকতার ক্ষেত্রে। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের লেখকদের মূল অবদান নৈতিকতার জগতে। রূপের কারিগর হয়ে ধূপের ফেরিওয়ালা।’

তার লেখায় যেমন উঠে এসেছে তৎকালীন সমাজ বাস্তবতা, অনাচার অবিচার, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, প্রতিবাদের ভাষ্য, ঠিক তেমনি এসেছে জীবনবোধ, সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার অনন্ত অনুপ্রেরণা। তিনি ছিলেন যুক্তিবাদী। সমস্ত কিছু যুক্তি দিয়ে বিচার-বিবেচনা করতেন। শওকত ওসমান আজীবন তাঁর শেকড়কে ভোলেননি। তিনি বলতেন, ‘যতদূরেই যাই আমরা, বাংলা ও বাঙালির কাছেই আবার আমাদের ফিরে আসতে হবে।’

প্রথম জীবনে অভাব-অনটন আর দারিদ্র্যতার মধ্যদিয়ে গেছেন শওকত ওসমান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে তার ছিল মাত্র দুটো পাঞ্জাবি। একটি পরতেন, আরেকটি ধুয়ে শুকাতেন। ধোপদুরস্ত ছিলেন বলে কেউ টেরই পেতো না, তিনি কতটা আর্থিক অনটনে আছেন। অথচ সেই সময়েও কারও কাছে বিন্দুমাত্র সাহায্যের জন্য হাত পাতেননি। বরং, শিরদাঁড়া উঁচু করে দেখিয়েছেন, মানুষ একাগ্রচিত্তে আর চরম অধ্যবসায়ে চাইলে কত দূর পৌঁছাতে পারে। অভাব, দরিদ্রতা, ক্ষুধা কোনোকিছুই তাকে গন্তব্য থেকে হঠাতে পারেনি। তাইতো আজীবন তিনি চলেছেন আলোকিত মানুষ হয়ে।  

শওকত ওসমানের রসবোধ ছিল অসাধারণ। তার মৃত্যুর ২৩ বছর আগে ১৯৭৫ সালেই তিনি ‘নিজস্ব সংবাদদাতা প্রেরিত’ রম্য রচনায় লিখেছিলেন, ‘কাল মারা গেছে শওকত ওসমান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন) রোববার তেইশে অঘ্রান ইমশাল। ইং...! ডাংগুলির ভাষায় ফিরে গেছে প্যাভিলিয়নে ক্লান্ত ব্যাট কাঁধে সমস্ত জীবন যা ঘুরিয়েছে অবাধে লেটকাটে পাকা—এবার সত্যি আউট। মরহুমের বয়স নিয়ে ঝুটমুট গবেষণা। কেউ বলে ত্রিশ, কেউ বাহাত্তর, কেউ যোগ করে আরও ছিল, ছিল ক্ষুর লেজ অপি—শতাধিক বয়সের ফল মানতে বাধ্য, বার্ধক্যেও ভীষণ চঞ্চল।’

নিজের অগ্রিম শোক সংবাদ লিখে রাখা আর নিজেকে নিয়ে পরিহাস করা একমাত্র শওকত ওসমানের পক্ষেই সম্ভব ছিল।

আজ জাতির কথাশিল্পী প্রখ্যাত সাহিত্যিক শওকত ওসমানের প্রয়াণ দিবস। বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই বাংলা সাহিত্যের এই মহীরুহের প্রতি।

 

তথ্য সূত্র:

কথাসাহিত্যে শওকত ওসমান/ বুলবুল ওসমান

নিজস্ব সংবাদদাতা প্রেরিত/ শওকত ওসমান

কথাশিল্পী শওকত ওসমান: জন্মশতবর্ষ স্মারকগ্রন্থ

শওকত ওসমানের উপন্যাস: বিষয় ও শিল্পরূপ/ আহমেদ মাওলা 

 

আহমাদ ইশতিয়াক ahmadistiak1952@gmail.com

Stay updated on the go with The Daily Star Android & iOS News App. Click here to download it for your device.

Grameenphone and Robi:
Type START <space> BR and send SMS it to 2222

Banglalink:
Type START <space> BR and send SMS it to 2225

পাঠকের মন্তব্য

Top