কে এই হারকিউলিস? | The Daily Star Bangla
০১:৫৭ অপরাহ্ন, ফেব্রুয়ারী ০২, ২০১৯ / সর্বশেষ সংশোধিত: ০২:০০ অপরাহ্ন, ফেব্রুয়ারী ০২, ২০১৯

কে এই হারকিউলিস?

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় গত শুক্রবার গলায় চিরকুট ঝোলানো এক সন্দেহভাজন ধর্ষণকারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এ ধরণের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো।

এবারের চিরকুটে লেখা ছিলো- ‘আমি পিরোজপুর ভান্ডারিয়ার...ধর্ষক রাকিব। ধর্ষকের পরিণতি ইহাই। ধর্ষকেরা সাবধান— হারকিউলিস।’

নিহত রাকিব (২০) একজন মাদ্রাসা ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ভান্ডারিয়া থানায় দায়েরকৃত মামলার আসামি ছিল।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাকিবের লাশটি পাওয়া গেছে। সম্ভবত কয়েক ঘণ্টা আগে তাকে গুলি করা হয়েছিলো।

রাকিব ভান্ডারিয়ার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র।

ওসি জাহিদুল জানান, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে, হারকিউলিসের ব্যাপারে তিনি অন্ধকারে আছেন।

তিনি আরও বলেন, “ময়নাতদন্তের জন্য লাশটিকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রাকিবের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।

এর আগে, গত ১৪ জানুয়ারি নানাবাড়ি যাওয়ার পথে দুই ব্যক্তির দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন ওই মাদ্রাসা ছাত্রী। 

এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সজল ও রাকিবকে আসামি করে গত ১৭ জানুয়ারি ভান্ডারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এরপর, গত ২৪ জানুয়ারি ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় প্রায় একই ধরণের গলায় চিরকুট ঝোলানো সজলের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সন্তান হত্যার ঘটনায় গত ২৬ জানুয়ারি সজলের বাবা শাহ আলম জমাদ্দার কাঠালিয়া থানায় একটি মামলা করেন বলে জানান ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক।

তিনি বলেন, “এই মামলায় ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীর বাবাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।”

প্রাথমিক তদন্তের বরাতে ওসি বলেন, “গত ২২ জানুয়ারি ঢাকা থেকে সজলকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়।”

এ মামলাটিও তদন্তের আওতাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

এই দুই ব্যক্তিসহ, গত দুই সপ্তাহে একইভাবে নিহত কমপক্ষে তিনজন সন্দেহভাজন ধর্ষণকারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গত ১৭ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভার থেকে একজন নারী গার্মেন্টস শ্রমিককে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন রিপনের (৩৯) গলায় চিরকুট ঝোলানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে, গত ৭ জানুয়ারি রিপন ও অপর তিন সহকর্মীর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়েরের পর আশুলিয়ার বেরুন এলাকায় নিজ বাড়িতে ১৮ বছর বয়সী ওই নারীর লাশ পাওয়া যায়।

এরপর, ওই নারীর বাবা তার মেয়েকে হত্যার ঘটনায় রিপন ও অপর তিনজনকে অভিযুক্ত করে আশুলিয়া থানায় অপর একটি মামলা করেন।

এসব ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে জানিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা বলেন, “এভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটানো এবং চিরকুট রেখে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

গতকাল দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, “আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। এ ধরণের ঘটনা কোনো ঘটছে তা আমাদের খুব সাবধানে বিশ্লেষণ করে দেখা উচিত।”

“দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর হাতে প্রতিটি ঘটনার ন্যায্য তদন্ত পরিচালনা ও সেগুলোকে বিচার প্রক্রিয়ার দিকে ধাবিত করার সম্পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে”, জানান তিনি।

Stay updated on the go with The Daily Star Android & iOS News App. Click here to download it for your device.

Grameenphone and Robi:
Type START <space> BR and send SMS it to 2222

Banglalink:
Type START <space> BR and send SMS it to 2225

পাঠকের মন্তব্য

Top