কেউ মারা গেলে ডিসি, এসপি ও রিটার্নিং কর্মকর্তার রেহাই নেই: কাদের মির্জা | The Daily Star Bangla
০৪:০২ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ১১, ২০২১ / সর্বশেষ সংশোধিত: ০৪:১৪ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ১১, ২০২১

কেউ মারা গেলে ডিসি, এসপি ও রিটার্নিং কর্মকর্তার রেহাই নেই: কাদের মির্জা

নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, নির্বাচনে নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেটরা নিরপেক্ষ থাকবেন। নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ যদি অনিয়ম করে তার খবর আছে।

তিনি বলেন, ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী ও তার ছেলে সাবাব চৌধুরী বাড়িতে অস্ত্র এনেছে। যদি নির্বাচনের দিন কোনো লোক মারা যায় কিংবা কোনো লোক আহত হয় অথবা কারও ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়, তবে ডিসি, এসপি ও রিটার্নিং কর্মকর্তার রেহাই নেই।’

আজ সোমবার সকালে বসুরহাটের রূপালী চত্বরে আয়োজিত নির্বাচিত সমাবেশে এসব কথা বলেন আবদুল কাদের মির্জা।

সম্প্রতি বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরের ব্যাপক সমালোচনা করে তাকে সতর্কবাণী দেন তিনি। এর আগে, দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের এবং নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি টেন্ডারবাজি নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে বক্তব্য দিয়ে দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় তুলেন।

তবে আজ ওবায়দুল কাদেরের উন্নয়নের প্রশংসা করেছেন বসুরহাট পৌরসভার এই মেয়রপ্রার্থী। তিনি বলেন, ‘নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ, বসুরহাট ও কবিরহাট এলাকার এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।’

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘আমি অন্যায় অসত্যের বিরুদ্ধে কোনো আপোষ করব না। আগামী ১৬ জানুয়ারির নির্বাচনকে অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়েছি। নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু হতে হবে।’

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক যুবলীগ নেত্রী আমাকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন, হুমকি দিয়েছেন। মোবাইল প্রযুক্তি ব্যাবহার করে ওই নারীর নাম ঠিকানা পরিচয় পাওয়া গেলেও, ডিসি এসপি এবং নির্বচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেননি।’

‘আমি এসব কথা বললেই কেন্দ্রের নেতারা ক্ষেপে যান। ১৬ জানুয়ারির ভোটে যে কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠবে, সঙ্গে সঙ্গে সে কেন্দ্রের ভোট বন্ধ হয়ে যাবে। আমি যদি অনিয়মের ভোটের সঙ্গে জড়িত থেকে বিজয়ী হই, তবে সেই দিনেই যেন আমার মৃত্যু হয়’, যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেটরা চাইলেই নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। যদিও নির্বাচনের অধিকার জিয়াউর রহমান হা-না ভোটের মাধ্যমে হরণ করেছেন এবং গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন।’

১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়েছে উল্লেখ করে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে কথা বললেই আমি খারাপ। আমাদের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ এলাকার সংসদ সদস্য। আমি তার শুভাকাঙ্ক্ষী নই। নোয়াখালীর ডিসি মো. খোরশেদ আলম খান একরাম চৌধুরীর মাস্ক মুখে লাগিয়ে চলেন। তার কাছ থেকে কী করে ন্যায় ও ভালো কিছু আশা করবে জনগণ?’

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এই সহ-সভাপতি বলেন, ‘কোম্পানীগঞ্জের কৃতি সন্তান নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন বুসরহাট পৌরসভা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ১২ জানুয়ারি থেকে এলাকায় অবস্থান করার কথা থাকলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তিনি আসবেন না। তবে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা দিয়েছেন তিনি।’

তিনি বলেন, ‘ফেনীর জনপ্রিয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা একরামকে গুলি করে গাড়িতে রেখে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার বিচার করা হয়নি। তার পরিবার বিচার পায়নি। নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী ৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী নোয়াখালীতে টেন্ডারবাজি, নিয়োগ ও বদলী বাণিজ্য করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছেন। আমাকে ধমকায়, আমাকে মেরে ফেলবে!’

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘চামচারা শেখ হাসিনাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমার বাবা গরিব স্কুল শিক্ষক ছিলেন। আমরা দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছি। কলেজ জীবনে হোস্টেলে থেকে, ঈদের দিনেও নতুন জামা তো দুরের কথা না খেয়ে থেকেছি এবং রাজনীতি করেছি। আমি গরীবের কষ্ট বুঝি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিরপেক্ষ ভোটে যদি আমাকে ভালো লাগে তবে নৌকায় ভোট দেবেন। আমি হেরে গেলে প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানাব। আমাকে, আমার ভাই মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভালো না লাগলে তাদের নাম হৃদয়ে ধারণ না করলেও চলবে, কিন্তু জীবন ও যৌবন উৎসর্গ করে এই দেশকে যিনি স্বাধীন করেছেন, সেই বঙ্গবন্ধুর কথা, তার নীতি আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করবেন। না হয় বেইমান হিসেবে পরিচিতি লাভ করবেন।’

এসময় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবউদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খিজির হায়াত খান, নূর নবী চৌধুরী, নাজমুল হক নাজিম, জামাল উদ্দিন, শিল্পপতি বাবু অরবিন্দ ভৌমিক, শিল্পপতি গোলাম শরিফ চৌধুরী, পিপুল আজম পাশা চৌধুরীসহ বসুরহাট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সুলতান নাছির উদ্দিনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:

আল্লাহর গজব পড়বে, আমি ঈমানদার: কাদের মির্জা

অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে বলায় জাতীয়ভাবে আমাকে উন্মাদ বলা হয়: কাদের মির্জা

অস্ত্র তাক করে রেখেছে, আমাকে মেরে ফেলতে পারে: কাদের মির্জা

অনেক বিপদে আছি, চাপে আছি, রাতে আমার ঘুম হয় না: কাদের মির্জা

ডেইলি স্টারকে যা বললেন ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জা

Stay updated on the go with The Daily Star Android & iOS News App. Click here to download it for your device.

Grameenphone and Robi:
Type START <space> BR and send SMS it to 2222

Banglalink:
Type START <space> BR and send SMS it to 2225

পাঠকের মন্তব্য

Top