বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ লাইভ আপডেট
০৪:০২ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ২০, ২০১৮ / সর্বশেষ সংশোধিত: ০৯:০০ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ২০, ২০১৮

সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সিরিজে সমতা আনল বাংলাদেশ

রামিন তালুকদার

মারদাঙ্গা ব্যাটিং করে টাইগারদের এনে দিয়েছেন লড়াকু সংগ্রহ। এরপর বল হাতে ধারণ করলেন রুদ্রমূর্তি। মূলত অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের হাতেই বিদ্ধস্ত হলো উইন্ডিজ। ৩৬ রানের দারুণ জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ দল।

২১২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা খারাপ করেনি উইন্ডিজ। এক পর্যায়ে ১ উইকেটে ৫৯ রান ছিল তাদের। তবে ছন্দে থাকা শেই হোপকে ফেরানোর পরই দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে টাইগাররা। এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে তারা। শেষ পর্যন্ত ৪ বল বাকী থাকতে ১৭৫ রানে গুটিয়ে যায় দলটি।

তবে দারুণ লড়াই করেছিলেন রভম্যান পাওয়েল। তিনটি জীবন পেয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরিতে জয়ের সম্ভাবনা জাগালেও হয়নি সাকিবের ঘূর্ণিতেই। একাই পাঁচটি উইকেট তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ২১১/৪ (তামিম ১৫, লিটন ৬০, সৌম্য ৩২, সাকিব ৪২*, মুশফিক ১, মাহমুদউল্লাহ ৪৩*; কটরেল ২/৩৮, টমাস ১/৪৩, ব্র্যাথওয়েট ০/৪৩, অ্যালেন ১/২৯, পল ০/৫৪)।

উইন্ডিজ: ১৯.২ ওভারে ১৭৫ (লুইস ১, হোপ ৩৬, পুরান ১৪, হেটমায়ার ১৯, রভম্যান ৫০, ব্র্যাভো ২, ব্র্যাথওয়েট ৮, অ্যালেন ০, পল ২৯, কটরেল ৩*, টমাস ০; রনি ১/৩৩, সাইফুদ্দিন ০/৪২, মোস্তাফিজ ২/৫০, সাকিব ৫/২১, মাহমুদউল্লাহ ১/২৩)।

ফল: বাংলাদেশ ৩৬ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাকিব আল হাসান।

পলকে ফেরালেন মোস্তাফিজ

মোস্তাফিজুর রহমানের ওভারের শেষ বলটা অনেকটা ব্যাটসম্যানের আবেদনেই ওয়াইড ডাকলেন আম্পায়ার। আর বাড়তি বলের ফায়দা তো তুলে নিতে পারেইনি, উল্টো উইকেট হারিয়েছে উইন্ডিজ। ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে মিডউইকেটে আরিফুল হকের হাতে ধরা পড়েছেন কিমো পল। ১৬ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৯ রান করেছেন তিনি। ১৭৩ রানে উইন্ডিজ হারায় নবম উইকেট।

হাফসেঞ্চুরি করেই ফিরলেন পাওয়েল

শুরু থেকেই কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের উপর চড়াও হয়েছিলেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানরা। তাই কিছুটা হলেও ব্যকফুটে এ পেসার। অন্যদিকে শুরুতে দুটি সহজ জীবন পেয়ে মারকুটে মেজাজে রভম্যান পাওয়েল। মোস্তাফিজের ওভারেও পেলেন আরও একটি জীবন। তবে দুই বল পরই পাওয়েলকে ফিরিয়েছেন কাটার মাস্টার। তার বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লংঅনে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ তুলে দেন পাওয়েল। আউট হওয়ার আগে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরির দেখা পান পাওয়েল। ৩৪ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫০ রান করেছেন এ ব্যাটসম্যান।  

সাকিবের পাঁচ উইকেট

শেষ ওভারের বল করতে এসে আরেক উইকেট নিলেন সাকিব আল হাসান। প্রথম বলেই ফ্যাবিয়ান অ্যালেনকে বোল্ড করে দেন তিনি। ৩ বল খেলে কোন রান করতে পারেননি অ্যালেন। পেসারদের বাজে দিনে দলের হাল ধরে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন অধিনায়ক। ১৩৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়েছে উইন্ডিজ।

সাকিবের চতুর্থ শিকার ব্র্যাথওয়েট

কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে এগিয়ে আসতে দেখে লেগ স্টাম্পের বাইরে বল করেছিলেন সাকিব আল হাসান। ফলে বলের লাইন মিস করেন উইন্ডিজ অধিনায়ক। উইকেটের পেছনে বলটা তড়িৎ ধরতে পারলেন না উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীম। ততক্ষণে উইকেট ঢুকে যাওয়ার বেশ সুযোগ ছিল ব্র্যাথওয়েটের। কিন্তু অলস ঢঙে পা পেছাতে গিয়েই ধরা খেলেন তিনি। কয়েক দফা চেষ্টার পর বল ধরে উইকেট ভাঙেন মুশফিক। ফলে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন উইন্ডিজ অধিনায়ক। ৩ বলে ১টি ছক্কায় ৮ রান করেন ব্র্যাথওয়েট। ১১৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় উইন্ডিজ।

ব্রাভোকে ফেরালেন সাকিব

হেটমায়ারকে আউট করার পর একই ওভারে ব্রাভোকেও তুলে নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। তার বলে স্লগ করতে গেলে আকাশে উঠিয়ে দেন বল। মিডউইকেট থেকে দারুণ  ক্যাচ লুফে নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৩ বলে ২ রান আসে ব্রাভোর ব্যাট থেকে। দলীয় ১০১ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় ক্যারিবিয়ানরা।

হেটমায়ারকে এবার ফেরালনে সাকিব

চলতি সিরিজে পাঁচবার শিমরন হেটমায়ারকে আউট করে দ্বৈরথ বেশ জমিয়ে দিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এদিনও তাকে ফেলেছিলেন এলবিডাব্লিউর ফাঁদে। রিভিউ নিয়ে সে যাত্রা বেঁচে যান হেটমায়ার। তবে তাকে ফিরিয়েছেন সাকিব আল হাসান। তবে এ আউটে দারুণ অবদান সাইফউদ্দিনের। সাকিবের বলে স্লগ সুইপ করতে গেলে আকাশে উঠে যায় বল। লংঅন থেকে দৌড়ে মিডঅনে দারুণ ক্যাচ ধরেছেন সাইফউদ্দিন। ১৭ বলে ১৯ রান করেছেন হেটমায়ার। দলীয় ৯৮ রানে  চতুর্থ হারায় সফরকারীরা।

পাওয়েলকে জীবন দিলেন মুশফিক

ব্যক্তিগত ৭ রানে সাকিব আল হাসানের হাতে জীবন পেয়েছিলেন রভম্যান পাওয়েল। দ্রুত গতিতে আসা সে ক্যাচটা ছিল কিছুটা হলেও কঠিন। তবে এবার তাকে সহজ জীবন দিলেন মুশফিকুর রহীম। এ সময় ১৫ রানে ব্যাট করছিলেন পাওয়েল।

হোপকে ফেরালেন মিরাজ

আগের টি-টোয়েন্টি ম্যাচে একাই টাইগারদের ধসিয়ে দিয়েছিলেন শেই হোপ। আর ওয়ানডে সিরিজে করেছিলেন টানা দুটি সেঞ্চুরি। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এ ব্যাটসম্যান এদিনও দারুণ ব্যাট চালাচ্ছিলেন। তবে বল হাতে নিয়েই তাকে থামিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার বলে পুল করতে গিয়ে মিডউইকেটে লিটন দাসের তালুবন্দি হন হোপ। ১৯ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৩৬ রান করেছেন এ ওপেনার। দলীয় ৬২ রানে তৃতীয় উইকেট হারালো সফরকারীরা।

পুরানকে ফেরালেন সাকিব

সাকিবের আগের বলেই ডিপ স্কয়ার দিয়ে দারুণ একটি ছক্কা মেরেছিলেন নিকোলাস পুরান। পরের বলেই মারতে গেলেন আরও একটি। তবে এবারে তার স্লগ সুইপ ঠিকভাবে ব্যাটে সংযোগ না ঘটাতে পারায় বল উঠে যায় শূন্যে। ফাইন লেগে সহজ ক্যাচ লুফে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। ৬ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৪ রান করেছেন পুরান। ৫৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় সফরকারীরা।

ঝড়ো গতিতে উইন্ডিজের ফিফটি

লক্ষ্য বড় হওয়ায় শুরু থেকেই আগ্রাসী ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানরা। মাঝে এভিন লুইসের উইকেট হারালেও আগ্রাসন কমেনি। মাত্র ৩.৫ ওভারে (২৩ বলে) এসেছে তাদের দলীয় ফিফটি। মোস্তাফিজুর রহমানের করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ২৪ রান নিয়েছেন তারা।

বিপদজনক লুইসকে ফেরালেন রনি

লক্ষ্যটা বিশাল। তাই হাত খুলেই ব্যাট করতেই হতো উইন্ডিজকে। প্রথম ওভারটা দেখে শুনে খেললেও পরের ওভার থেকেই আঘাত আক্রমণে গিয়েছিলেন সফরকারী দলের দুই ওপেনার। তবে তৃতীয় ওভারেই পালটা আঘাত হেনেছেন আবু হায়দার রনি। তুলে নিয়েছেন বিপদজনক ব্যাটসম্যান এভিন লুইসকে। পুল করতে গিয়ে আকাশে তুলে মিডউইকেটে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন লুইস। ৬ বলে ১ রান করেছেন এ ওপেনার। দলীয় ১৮ রানে পড়ে প্রথম উইকেট।  

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ

রেকর্ড হতে পারতো আরও একটি। চলতি বছরের মার্চে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১৫ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। এ সংস্করণে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান। এদিন শেষ দুই ওভারে আশানুরূপ ব্যাটিং করতে না পারায় নিজেদের সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়তে পারেনি টাইগাররা। শেষ দুই ওভারে আসে ১৬ রান।

উইন্ডিজকে ২১২ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ

শুরুটা করেছিলেন লিটন কুমার দাস। ঝড়ো ফিফটি তুলে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছিলেন সৌম্য সরকার। এরপর হঠাৎ ছন্দপতন। তবে পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহকে দারুণ প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দুই ব্যাটসম্যানই করেন চল্লিশার্ধ রান। ফলে ২১১ রানের বড় সংগ্রহই পেয়েছে বাংলাদেশ। ফলে জিততে হলে ২১২ রানের বিশাল লক্ষ্যই পার করতে হবে সফরকারীদের।

শেষ দিকে সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ দুই ব্যাটসম্যানের হাফসেঞ্চুরি করার সুযোগ ছিল। কিন্তু করতে পারেননি কেউই। ২৬ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় হার না মানা ৪২ রানের ইনিংস খেলেছেন সাকিব। আর ২১ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ২১১/৪ (তামিম ১৫, লিটন ৬০, সৌম্য ৩২, সাকিব ৪২*, মুশফিক ১, মাহমুদউল্লাহ ৪৩*; কটরেল ২/৩৮, টমাস ১/৪৩, ব্র্যাথওয়েট ০/৪৩, অ্যালেন ১/২৯, পল ০/৫৪)।

পঞ্চম উইকেটে টাইগারদের রেকর্ড জুটি

পঞ্চম উইকেটে ৯১ রান যোগ করেছেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ। যা পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি। এর আগে চলতি বছরেই দেরাদুনে মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ ৮৪ রানের জুটিটি ছিল সর্বোচ্চ।

সাকিব-মাহমুদউল্লাহ জুটিতে পঞ্চাশ

স্কোরবোর্ডে ১০ রান যোগ করতেই দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে সে চাপ সামলে নিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এরমধ্যেই গড়েছেন পঞ্চাশ রানের জুটি। মাত্র ২১ বলে এসেছে এ জুটির হাফসেঞ্চুরি।

মুশফিকের বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ

দারুণ শুরুর পর হঠাৎ ছন্দপতন। ১ উইকেটে ১১০ রান করার পর স্কোরবোর্ডে আর ১০ রান যোগ করতে দুই সেট ব্যাটসম্যানকে তো হারিয়েছেই, সঙ্গে হারালো মুশফিকুর রহীমকেও। ওশেন টমাসের বলে স্লগ করতে গিয়ে মিডউইকেটে ধরা পড়েছেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। ৩ বলে ১ রান করেছেন তিনি।

সৌম্যর পর একই ওভারে লিটনকেও ফেরালেন কট্রেল

সৌম্য সরকারকে আউট করার পর একই লিটন কুমার দাসকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন দারুণ ছন্দে থাকা উইন্ডিজ পেসার শেল্ডন কট্রেল। পিছিয়ে কাট করতে চেয়েছিলেন লিটন। কিন্তু লাইন মিস করায় বোল্ড হয়ে যান এ ওপেনার। তবে আউট হওয়ার আগে ৩৪ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলেছেন লিটন। দলীয় ১১৩ রানে টাইগারদের তৃতীয় উইকেটের পতন হয়।

সৌম্যর বিদায়ে ভাঙল জুটি

এক প্রান্তে ঝড় তুলছেন লিটন কুমার দাস। আর অপর প্রান্ত থেকে তাকে স্ট্রাইক দিচ্ছিলেন সৌম্য সরকার। তবে কিছুক্ষণ পর নিজেও যোগ দিলেন রানের গতি বাড়াতে। দারুণ ব্যাটিংও করছিলেন। তবে শ্লেডন কট্রেলের স্লোয়ারে আউট হয়েছেন সৌম্য। তবে কভার দারুণ ক্যাচ ধরেছেন অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। প্রথমে হাত দিয়ে ফিরিয়ে নিচে পড়ার সময় বল ধরে নেন তিনি। ২২ বলে ৩২ রান করেছেন সৌম্য। দলীয় ১১০ রানে তার বিদায়ে ভাঙে ৬৮ রানের জুটি।

লিটনের ঝড়ো হাফসেঞ্চুরি

উইকেটে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছিলেন লিটন কুমার দাস। দারুণ সব শট খেলে এর মধ্যেই তুলে নিয়েছেন নিজের হাফসেঞ্চুরি। মাত্র ২৬ বলে ফিফটি পূরণ করেন এ ওপেনার। উইন্ডিজ অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের বলে বাউন্ডারি মেরে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরিটি করেন লিটন।

১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৯৮ রান। লিটন ৫৬ ও সৌম্য সরকার ২৩ রানে ব্যাট করছেন।

সৌম্য-লিটন জুটিতে ফিফটি

ওপেনার তামিম ইকবালের বিদায়ের পর সৌম্য সরকারকে নিয়ে দারুণ ব্যাটিং করছেন লিটন কুমার দাস। এরমধ্যেই এ জুটি পার করেছে হাফসেঞ্চুরি। দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৩৪ বলে ফিফটি পূরণ করে এ জুটি।

ঝড়ো গতিতে বাংলাদেশের ফিফটি

শুরু থেকেই হাত খুলে ব্যাটিং করছিলেন দুই ওপেনার। দারুণ সূচনা এনে দিয়ে তামিম ইকবাল আউট হলেও থামেনি টাইগারদের আক্রমণ। মাত্র ৫.৩ ওভারে (৩৪ বলে) এসেছে দলীয় হাফসেঞ্চুরি। ওশেন টমাসের বলে ছক্কা মেরে দলীয় ফিফটি স্পর্শ করেন লিটন দাস।

পাওয়ার প্লের ছয় ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৬২ রান। লিটন দাস ব্যাট করছেন ৪১ রানে। ২ রানে উইকেটে আছেন সৌম্য সরকার।

উড়ন্ত শুরুর পরে তামিমের বিদায়

প্রথম চার ওভারেই ৪২ রান সংগ্রহ করে টাইগারদের সূচনাটা হয়েছিল দারুণ। তবে আক্রমণে স্পিন আসতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ফ্যাবিয়েন অ্যালেনের প্রথম বলেই আউট হয়েছেন ওপেনার তামিম ইকবাল। শর্ট মিডউইকেটে শেল্ডন কট্রেলের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরমুখী হন এ ওপেনার। ১৬ বল ১৫ রান করেছেন তিনি। দলীয় ৪২ রানে প্রথম উইকেটের পতন হয় টাইগারদের।

৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৪৭ রান। ২৯ রানে ব্যাট করছেন লিটন দাস। নতুন ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার উইকেটে আছেন ১ রানে।

জীবন পেলেন তামিম

ওশেন টমাসের করা আগের ওভারেই দুইবার টাইমিংয়ে হেরফের করেছিলেন ওপেনার তামিম ইকবাল। ভাগ্য সঙ্গে থাকায় ফাঁকায় পরে বল। তবে কট্রেলের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেও ঠিকভাবে খেলতে না পারায় কভারে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন তিনি। তবে সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি উইন্ডিজ। ফ্যাবিয়েন অ্যালেনের হাত ফসকে গেলে জীবন পান তামিম। এ সময় ১৩ রানে ব্যাট করছিলেন এ ওপেনার।

৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ২৮ রান। তামিম ১৪ ও লিটন ১৩ রানে ব্যাট করছেন।

পরিবর্তন আসেনি উইন্ডিজ একাদশেও

উইনিং কম্বিনেশন ধরে রেখেছে উইন্ডিজ। আগের ম্যাচের খেলোয়াড়দের নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নেমেছে ক্যারিবিয়ানরা।

উইন্ডিজ একাদশ: এভিন লুইস, শেই হোপ, ড্যারেন ব্র্যাভো, শিমরন হেটমায়ার, নিকোলাস পুরান, রভম্যান পাওয়েল, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, কিমো পল, শেল্ডন কট্রেল ও ওশেন টমাস।

খেলছেন সাকিব, অপরিবর্তিত বাংলাদেশ দল

সিলেট থেকে ঢাকায় ফিরে আগের দিন মাঠে আসলেও অনুশীলন করেননি সাকিব আল হাসান। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিশ্রামে ছিলেন তিনি। তাই গুঞ্জন উঠেছিল দ্বিতীয় ম্যাচে খেলছেন না অধিনায়ক। তবে সব গুঞ্জন উড়িয়ে খেলছেন এ অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, আরিফুল হক, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আবু হায়দার রনি ও মোস্তাফিজুর রহমান।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ। বিশাল ব্যবধানে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে টাইগাররা। তাই সিরিজে টিকে থাকতে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই তাদের হাতে। গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচেও টস হেরেছেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নিহেছেন উইন্ডিজ অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। অর্থাৎ এ ম্যাচেও আগে ব্যাট করতে হচ্ছে টাইগারদের। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বিকাল ৫টায়।

Stay updated on the go with The Daily Star Android & iOS News App. Click here to download it for your device.

Grameenphone and Robi:
Type START <space> BR and send SMS it to 2222

Banglalink:
Type START <space> BR and send SMS it to 2225

পাঠকের মন্তব্য

Top