বিয়ের আগে ফিট ও সুন্দর থাকার সহজ ডায়েট

নারী হোক বা পুরুষ যেকোনো মানুষের জীবনে বিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশেষ মূহুর্ত। আর বিয়ের দিনের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে বর ও কনে।
ছবি: যুবায়ের বিন ইকবাল

নারী হোক বা পুরুষ যেকোনো মানুষের জীবনে বিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশেষ মূহুর্ত। আর বিয়ের দিনের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে বর ও কনে।

বিয়ের আগে বর কনের চিন্তা একটু বেশি করতে হয়। খাবারদাবার, পোশাক, গহনা থেকে শুরু করে আরও কত কী। বিয়ের দিন তারিখ নির্ধারণ হলেই শুরু হয় বর কনের নানা রকম দায়িত্ব। এই সময় বিয়ের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বাড়তি চিন্তায় অনেকেই নিজের খাবার দাবার বা ডায়েটের কথা ভুলে যান। আবার কেউ নিজেকে তাড়াতাড়ি স্লিম দেখাতে গিয়ে একেবারেই খাওয়া দাওয়া কমিয়ে দেন। যেটা মোটেও করা উচিৎ নয়।

ছবি: যুবায়ের বিন ইকবাল

বিয়ের অনুষ্ঠানের আগে যদি হাতে কিছু সময় থাকে তবে সেই সময়ের মধ্যেই নিজের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে নিজেকে করতে পারেন ফিট এবং সুন্দর। বিয়ের এই সময়টাতে বর কনের মানসিক চাপ বেড়ে যায় এবং এর প্রভাব পড়ে ত্বকে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা করলে চেহারায় ক্লান্তির ছাপ পড়তে পারে। ত্বক সুন্দর রাখতে তাই দুশ্চিন্তা কম করতে হবে এবং তৈলাক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। প্রচুর পানি পান করে ত্বককে ডিহাইড্রেট রাখতে হবে। সবজি, ফলমূল বেশি করে খেতে হবে। এতে ত্বক সজীব দেখাবে।

এছাড়াও বিয়ের সময়টাতে অতিরিক্ত চিন্তার কারণে খাওয়া-দাওয়ার অনিয়মে শরীরে ক্যালরি কম সঞ্চয় হয়। তাই বাদাম খাওয়া অভ্যাস করতে হবে। প্রতিদিন সকালে এক মুঠো যেকোনো ধরনের বাদাম খেলে পুষ্টিও পাওয়া যাবে সঙ্গে ক্যালরিও সঠিক মাত্রায় শরীর গ্রহণ করতে পারবে।

ইব্রাহীম জেনারেল হাসপাতাল এবং ডিসিইসি এর ডেপুটি চীফ নিউট্রিশন অফিসার পুষ্টিবিদ ফারজানা আনজিন বলেন, 'বিয়ের আগে বর ও কনের অবশ্যই একটা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অভ্যাস করা উচিত। বাইরের খাবার বা ভাজা পোড়া খেয়ে যেন পেটের পীড়া না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এই সময় ডায়েট চার্টে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এবং সবজি ও ফল রাখতে হবে। শরীরের ইমিউনিটি বৃদ্ধি করে এমন খাবার ও রাখতে হবে খাদ্য তালিকায়।'

বিয়ের আগে যদি হাতে একমাস সময় থাকে তবে একমাস আগে নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। একমাসে মাঝেমধ্যে একদিন বেশি খেয়ে ফেললেও চিন্তার কোনো কারণ নেই। ভাত ও রুটির পরিমাণ একটু কমিয়ে দিন এবং সালাদ ও সবুজ শাক সবজি বেশি করে খান। ব্যায়াম করার সময় একটু বাড়িয়ে দিন।

নিজের পছন্দমতো সবজি দিয়ে তৈরি জুস খেতে পারেন। ডায়েট সঠিক রাখতে গেলে গাজর, বিট রুট এবং টমেটো সব থেকে ভালো অপশন। এসময় স্কিন গ্লোর জন্যও এটি বেশ উপকারী। বাইরে খাওয়া দাওয়া করলে সঙ্গে সালাদ খাওয়ার চেষ্টা করুন। ডুবো তেলে ভাজা খাবার থেকে বিরত থাকুন।

সারাদিন বাইরে থাকতে হলে ড্রাই ফ্রুটস সঙ্গে নেওয়া যেতে পারে। সেগুলো হেলদি স্ন্যাকস হিসেবে ভালো হবে। জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। বাইরের কোনো খাবার খেলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। সারাদিনে খুব বেশি চা বা কফি না খাওয়াই ভালো।

চিয়া সিডের পানি প্রতিদিন পান করার চেষ্টা করুন। চিয়া সিড ওমেগা থ্রির সব থেকে ভালো উৎস, এটি অল্প পরিমাণে ফ্যাট যেমন আয়ত্বে রাখে তেমনই স্কিনের সঙ্গে শক্তি বাড়াতে কাজ করে।

খেতে ভালো লাগলে এক বাটি পাকা পেঁপে প্রতিদিন খেতে পারেন। এটি দেহের কোষগুলোকে পুষ্টি প্রদান করে এবং সতেজ রাখতে সাহায্য করে। সঙ্গে খাবার হজমেও সহায়তা করে।

টক দই সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর। খাবারের সঙ্গে সঙ্গেই ভিটামিন এবং ক্যালসিয়াম দুটিই দারুণভাবে সরবরাহ করে। সে কারণে টক দই প্রতিদিন খেতে হবে।

রাতে অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

যদি ওজন কমানোর ডায়েট করতে চান তাহলে অবশ্যই চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। স্টার্চযুক্ত সবজি যেমন, আলু, ভুট্টা, মিষ্টি আলু কখনোই খাবেন না। দুধ চা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটা বদলে চিনি ছাড়া চা বা গ্রিণ টি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এ ছাড়া রাতে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন ভাত, রুটি বাদ দিয়ে সবজি ও প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন মাছ, মাংস, ডিম দুধ তালিকায় রাখুন। পর্যাপ্ত পানি বা তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ করুন এবং অবশ্যই দিনে অন্তত ৩০ মিনিট রাখুন শরীরচর্চার জন্য।

Comments