মুশফিকের রেকর্ডময় ডাবল সেঞ্চুরি | The Daily Star Bangla
০৩:১০ অপরাহ্ন, নভেম্বর ১২, ২০১৮ / সর্বশেষ সংশোধিত: ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, নভেম্বর ১২, ২০১৮

মুশফিকের রেকর্ডময় ডাবল সেঞ্চুরি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সিকান্দার রাজাকে পুল করে স্কয়ার লেগে ঠেলেই পড়িমরি দৌড়। ৪০৭ বলে ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছানোর পর ব্যাট ছুঁড়ে দুহাত উঁচিয়ে মুশফিকুর রহিমের উদযাপনটাও হলো বিশেষ। ড্রেসিং রুমের দিকে ছুঁড়ে দিলেন ‘ভালোবাসা’। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে দু’টি ডাবল সেঞ্চুরির উল্লাস তো বিশেষ হবেই। এই ইনিংসে মুশফিক উলট-পালট করেছেন কয়েকটি রেকর্ডও। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করা একমাত্র ক্রিকেটার এখন তিনি। এছাড়া রানে পেছেনে ফেলেছেন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালকে। আরও দুই রেকর্ডে ছাপিয়ে গেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল, আমিনুল ইসলাম বুলবুলকেও। 

অপেক্ষাটা ছিল চা বিরতির আগে থেকেই। ১৯৫ রান নিয়ে চা-বিরতির থেকে ফেরার পর স্নায়ুচাপে নিচ্ছিলেন সময়। সারাদিনে যাকে সবচেয়ে অনায়াসে মেরেছেন সেই ব্র্যান্ডন মাভুটাকে দিলেন দিনের প্রথম মেডেন ওভার। তবে এরপরের ওভারেই হয়ে যায় কাজ। ৫৬৪ মিনিট ক্রিজে থাকা মুশফিকের এই ডাবল সেঞ্চুরিই টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে মন্থরতম।

নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে করা সাকিব আল হাসানের ২১৭ রানের ইনিংস ছাপিয়ে মুশফিকের অপরাজিত ২১৯ রানই এখন টেস্টে বাংলাদেশের কারো সর্বোচ্চ ইনিংস।

এর আগে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের সঙ্গে একটি করে ডাবল সেঞ্চুরি ছিল মুশফিকের। ২০১৩ সালে গলের পর এবার মুশফিকের হয়ে গেল দ্বিতীয়টি। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে এল চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরি। মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিও এখন মুশফিকের।

চলতি বছর পুরো বিশ্বের মধ্যেই মুশফিক অনন্য হয়ে গেলে এক জায়গায়। চলতি বছর টেস্টে যে এটিই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি।

ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে মুশফিক পেছনে ফেলেছেন ১৮ বছর আগে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ইনিংসকেও।  সময়ের হিসেবে এটিই এখন টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে লম্বা ইনিংস। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে আমিনুল তার ১৪৫ রানের ইনিংসে ৫৩৫ মিনিট ক্রিজে ছিলেন।

রান ও বলের হিসাবে সবচেয়ে মন্থরতম ডাবল সেঞ্চুরি তো বটেই। বলের হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে  টেস্টে  সবচেয়ে লম্বা ইনিংসের মালিকও এখন মুশফিক। এর আগে ২০১৩ সালে  শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে মোহাম্মদ আশরাফুল ১৯০ রানের ইনিংস খেলতে লাগিয়েছিলেন ৪১৭ বল। মুশফিক ছাড়িয়ে গেছেন তাকে।

আগের দিন যখন ব্যাট করতে নামেন দল ছিল ভীষণ চাপে। মুমিনুল হককে নিয়ে সেই চাপ সরিয়ে মুশফিকুর রহিম সেঞ্চুরি তুলেই শেষ করেন প্রথম দিন। মুমিনুলের আগ্রাসনের বিপরীতে তার ব্যাটে ছিল আস্থার ছবি। এদিনও দেখা গেল তা। দ্বিতীয় দিনে শুরুতে উইকেটে ছিল আর্দ্রতা, জিম্বাবুয়ের পেসাররা ছিলেন তেতে। চোয়লবদ্ধ দৃঢ়তায় সেই কঠিন সময় পার করেছেন। প্রথম ঘণ্টায় করেন মাত্র ৪ রান। বেলা বাড়ার সঙ্গে বাড়ে মুশফিকুকের ব্যাটের দাপট। নিজের ট্রেডমার্ক সব শট খেলেছেন। ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে মেরেছেন ১৬ চার আর এক ছক্কা।

মুশফিক তার ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন আরও আগ্রাসীভাবে। বল খেলা ও মিনিটের হিসেবেও ছিল তা এরচেয়ে অনেক দ্রুত। কিন্তু এবার পরিস্থিতির দাবি মিটিয়েছেন। পুরো ইনিংসে তেমন কোন সুযোগ দেননি প্রতিপক্ষের বোলারদের।

মুশফিক এমন এক সময়ে ডাবল সেঞ্চুরি পেলেন যখন কিনা দল ছিল ব্যাটিংয়ের দিক থেকে ছিল সবচেয়ে খারাপ সময়ে। গত আট টেস্ট ইনিংস থেকেই টেস্টে দু’শো পেরুতে পারছিল না বাংলাদেশ। মুশফিকও পাচ্ছেন না রানের দেখা। জিম্বাবুয়ের কাছে সিলেট টেস্টে দলের ভরাডুবির পর উঠছিল নানা প্রশ্ন। মিরপুরে নামার আগে মাথার উপর চাপ ছিল। সেই চাপ মুশফিক সরালেন দারুণভাবে।

উইকেট ছিল না একেবারে ফ্ল্যাট। মাঝে মাঝেই পেসারদের বল লাফিয়ে উঠছিল আচমকা। ট্রিকি উইকেটে টিকে থেকে রান পেতে দরকার ছিল বাড়তি নিবেদন। মুশফিকের ব্যাটে এদিন দেখা গেল তার পুরোটা।

Stay updated on the go with The Daily Star Android & iOS News App. Click here to download it for your device.

Grameenphone and Robi:
Type START <space> BR and send SMS it to 2222

Banglalink:
Type START <space> BR and send SMS it to 2225

পাঠকের মন্তব্য

Top