উত্তাপ ছড়ানো মাশরাফির ওই সংবাদ সম্মেলনে কী ছিল সব প্রশ্ন-উত্তর | The Daily Star Bangla
০১:২৩ পূর্বাহ্ন, মার্চ ০১, ২০২০ / সর্বশেষ সংশোধিত: ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মার্চ ০১, ২০২০

উত্তাপ ছড়ানো মাশরাফির ওই সংবাদ সম্মেলনে কী ছিল সব প্রশ্ন-উত্তর

ক্রীড়া প্রতিবেদক, সিলেট থেকে

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার সংবাদ সম্মেলন এখন তুমুল আলোচিত। প্রশ্নোত্তরের এক পর্যায়ে ‘আত্মসম্মান’ প্রসঙ্গ আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান অধিনায়ক। অনেকের কৌতূহল, সেই প্রতিক্রিয়ার প্রশ্নটা আসলে কেমন ছিল, কী ছিল পুরো সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নত্তোরের ধরন, তা বিস্তারিত দেওয়া হলো পাঠকদের জন্য।

বোর্ড সভাপতি কিছুদিন আগে বলেছিলেন, মাসখানেকের মধ্যে ওয়ানাডের একজন অধিনায়ক ঠিক করা হবে। সে ব্যাপারে বোর্ডের সঙ্গে আপনার কোনো আলাপ হয়েছি কী-না। আপনাকে আবারও অধিনায়কত্ব লম্বা করতে বলা হলে আপনি কি প্রস্তুত? আবার কথা চলছে, এটাই আপনার শেষ অধিনায়কত্বের সিরিজও হতে পারে, গণমাধ্যমকে যদি আপনার দিক থেকে সবটা পরিস্কার করতেন।

মাশরাফি:  সব তো বোর্ড সভাপতি বলেছেন। আমার সঙ্গে কি কি কথা হয়েছে বোর্ড সভাপতির, আমার মনে হয় না সেটা আপনাদেরকে বলার প্রয়োজন আছে। ক্রিকেট বোর্ড যেটা বলেছে আপনারা তো জানেনই। অতটুকুই তো যথেষ্ট। আমার মুখ থেকে আবার শুনতে হবে কেন?

প্রশ্ন: এটা কি আপনার শেষ ওয়ানডে সিরিজ কি-না ক্যাপ্টেন হিসেবে?

মাশরাফি: সেটা তো আমি জানি না। আমি তো বলেছি এটা নিয়ে বলার কিছু নাই। যদি থাকত অবশ্যই বলতাম। বোর্ড সভাপতি যেটা বলেছেন, আপনারা তো সেটা জেনেছেনই। আমার মুখ থেকে শোনার আর কি আছে?

প্রশ্ন: বিশ্বকাপের পর আপনার আরেকটি সিরিজ। নিশ্চয়ই আপনি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করতে চেষ্টা করবেন এবং দলকে পুর্নগঠন করতে চাইবেন?

মাশরাফি: পারফরম্যান্স প্রত্যেকেটা খেলোয়াড়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেটা আমার জন্যও। মূল বিষয় হচ্ছে দল জেতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শেষ তিন চারটা ওয়ানডেতে আমরা জেতার ভেতরে নেই। সুতরাং দলের জেতাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: ওয়ানডেতে ফেরার পর আপনার পারফরম্যান্সের ফোকাস কেমন থাকবে?

মাশরাফি:  আগের প্রশ্নেই বললাম, সবাই চায় পারফরম্যান্স ভালো করতে। আমার জন্যও এর বাইরে কিছু না। অবশ্যই চেষ্টা করব। একই সঙ্গে দলের জেতাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দুটো জিনিসই চেষ্টা করতে হবে যেন ঠিক মতো যায়।

প্রশ্ন: জিম্বাবুয়েকে ক্লিন সুইপ করতে চান?

মাশরাফি: জিম্বাবুয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অনেক ভালো দল। এই ফরম্যাটে তারা প্রচুর ক্রিকেট খেলে। অবশ্যই আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ যেতে চেষ্টা করব। এখনই তিন ম্যাচ নিয়ে ভাবছি না। আমরা কাল ভালো শুরু করতে পারলে এরপর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ম্যাচে ভালো করতে হবে। কারণ জিম্বাবুয়ে যে কোনো দলকে হারাতে পারে। তাই তিনটি ম্যাচ নিয়ে এখনই বলা যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ হলো কাল ভালো করা।

প্রশ্ন: আপনি নিঃসন্দেহে সফল অধিনায়ক। মাঝে একটু দূরেও ছিলেন। এখন জিনিসগুলো কি আগের মতোই আছে। অধিনায়ক হিসেবে ড্রেসিংরুমে কি আগের পরিবেশই দেখতে পাচ্ছেন?

মাশরাফি: যারা ছিল তারা সবাই খেলার ভেতরে ছিল। ওয়ানডে তো ছিল না, কোনো পরিবর্তন দেখছি না। সবাই পেশাদার, যার যার দায়িত্ব সবাই জানে। এখানে আমার সমস্যা হওয়ার কোনো কারণই আমি দেখছি না। কারণ নাইও। আর এই ক্রিকেটারদের সঙ্গেই তো এত বছর খেলেছি। সুতরাং সমস্যা হওয়ার কোনো কারণই নেই। এর আগেও হয়েছে এরকম, তিন চার পাঁচ মাস ওয়ানডে খেলা নেই। এসে অধিনায়কত্ব করতে হয়েছে। নাথিং নিউ। একই সঙ্গে বলব, সবাই পেশাদার, সবাই সবার কাজটা ভালো করেই জানে।

প্রশ্ন: ২০১৪ সালে যখন অধিনায়কত্ব নিয়েছিলেন তখনও বাংলাদেশ দল হারছিল, এখন আবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা, আবারও কি আগের মতো শুরু করতে হবে?

মাশরাফি: পাঁচ বছর আগের কথা আর পাঁচ বছর পরের কথা নিশ্চয়ই এক না। বাংলাদেশের জন্য প্রত্যেকেটা সিরিজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জিতলে হয়তোবা ইতিবাচক জিনিসগুলো কম আসবে। আর ম্যাচে যদি হারি তাহলে নেতিবাক জিনিসগুলো বেশি আসবে। এমন না, জিম্বাবুয়ের সঙ্গেই শুরু করতে হবে। এরপর দল পাকিস্তানে যাবে, টেস্ট খেলবে। খেলা তো সব জায়গায় চাপের। প্রতিনিয়ত খেলা চলছে, এই বছর প্রচুর খেলা আছে। প্রত্যেকটা শুরুই এক একটি প্রক্রিয়া।

প্রশ্ন: বললেন, হারলে অনেক প্রশ্ন থাকে, সেটা কি খেলোয়াড়দের মাথায় থাকে?

মাশরাফি: যখন আমরা শীর্ষ এক দুই নম্বর দলের বিপক্ষে খেলি, তখন তারা চাপ অনুভব করে। খুবই স্বাভাবিক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এমন একটা জিনিস, যার বিপক্ষেই খেলেন না কেন, মিডিয়া, দর্শকের প্রত্যাশা থাকে। যখনই লাল সবুজের জার্সিটা গায়ে উঠবে তখনই অটোমেটিক একটা চাপ থাকেই। খুব নর্মাল জিনিস। এটাকে হ্যান্ডেল করার সামর্থ্য এই দলের অবশ্যই আছে। আগেও করেছে। জাতীয় দলের খেলা থাকলে অটোমেটিক একটা চাপ তো থাকবেই।

প্রশ্ন: বিপিএলের একটা সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, পারফরম্যান্সের কারণে দলে এই মুহূর্তে আপনার জায়গা আশা করেন না, আবার এই মুহূর্তে অধিনায়ক মাশরাফির বিকল্পও নাই। এই জিনিসটা কিভাবে দেখেন? আরেকটি প্রশ্ন হলো আপনার পারফরম্যান্সের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা রকম প্রশ্ন উঠেছে। ক্যারিয়ারে সব সময় নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ অনুভব করেছেন। ঠিক এই মুহূর্তে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার তাগিদ বা চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন কী-না।

মাশরাফি: প্রথম প্রশ্ন যেটা করলেন সেটা নিঃসন্দেহে আমার ভাবনার জায়গা না। ম্যানেজমেন্টের ভাবনার জায়গা। এটা নিয়ে আমি একদমই ভাবছি না। দল নির্বাচনের আগেও আমি একদমই ভাবিনি। বোর্ডের সিদ্ধান্ত, টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত।

আর নতুন করে প্রমাণের তাগিদ?

মাশরাফি: না, এটা না। আমি নিশ্চয়তা দিতে পারব না যে আমি পারফর্ম করব। এই নিশ্চয়তা বিশ্বের কেউই দিতে পারবে না। তবে একটা নিশ্চয়তা দেওয়া যায়, আমি শতভাগ চেষ্টা করছি কী-না। একটা খেলোয়াড়ের মূল জায়গা হচ্ছে শতভাগ চেষ্টা করছে কী-না। বা টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে প্রশ্ন থাকলেও থাকতে পারে ডেডিকেশন ঠিক মতো আছে কী-না। সেই জায়গাগুলো প্রশ্নবৃদ্ধ থাকলে আমি মনে করি অনেক কিছু পরিবর্তন করার আছে। কিন্তু পৃথিবীর কোনো খেলোয়াড় নিশ্চয়তা দিতে পারবে না, সে মাঠে পারফর্ম করবে। আগেও বলেছি, এতদিন কাউকে প্রমাণ দিতে ক্রিকেট খেলিনি, নিজের ক্রিকেট খেলেছি। আরেকটা বললেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রশ্ন আমাকে করে লাভ নেই। আপনার মনে যেটা আছে সেটা করেন। এখন যদি আপনার মনে হয় আমাকে প্রমাণ করতে হবে, আমি প্রমাণ করার জন্য ক্রিকেট খেলছি না। আমি বাংলাদেশের হয়ে খেলেছি, বাংলাদেশকে জেতানো আমাদের প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের দায়িত্ব। সেরাটা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সেটা আমার সব সময় চেষ্টা করি। নিশ্চয়তা তো কোনো খেলোয়াড়ই দিতে পারে না।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপের আগে আপনার অবসর নিয়ে অনেক প্রশ্ন হয়েছে। এবারও প্রশ্ন হচ্ছে, আপনাকে এসব কতটা বিব্রত করে?

মাশরাফি:  বিব্রত করে না।

প্রশ্ন: এই সিরিজের পর পাকিস্তানে একটা ওয়ানডে আছে, যেহেতু বিসিবি সুযোগ রেখেছে কেউ চাইলে নাও যেতে পারে। মুশফিক এই সুযোগটা নিচ্ছে। আপনি কি ওই ম্যাচের জন্য উন্মুক্ত রাখবেন?

মাশরাফি: প্রথমত জানি না এই সিরিজের পর কি হবে। বাংলাদেশ দলের প্রয়োজনে ডাকলে আমি যে কোনো জায়গায় থাকব। আমি সব সময় অনুভব করি, ক্রিকেট বোর্ড আমাদের অভিভাবক। ক্রিকেট বোর্ড আমাদের কথা , একবার দুইবার, তিনবার না, ১০ বার ভেবে সিদ্ধান্ত নেবে। এটাই আমরা প্রত্যাশা করি। আমাদের উচিৎ ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত ভাবা। পাকিস্তানে গিয়ে যদি কোনো খেলোয়াড়ের কোনো কিছু হয়, আমি বিশ্বাস করি সেটা পরিবারের থেকে ক্রিকেট বোর্ডের বেশি আঘাত লাগা উচিৎ। এবং উনারা এটা দশবার ভেবেই সিদ্ধান্ত নেবে। শতভাগ নিরাপত্তা উনারা নিশ্চিত করবে। এরপরও মানুষে মানুষে ভিন্নতা আছে। মুশফিকের সিদ্ধান্তের প্রতি আমি শ্রদ্ধা রাখি এবং ক্রিকেট বোর্ড থেকে সুযোগটা করে দিয়েছে যে, যদি কেউ না যেতে চায়, যাবে না। নির্বাচকরা যখন দল গঠনে বসবেন পাকিস্তান সফরের আগে তখন নিশ্চই ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেককে জিজ্ঞেস করবে কে যেতে চায়, কে যেতে চায় না। আমাকে যদি কখনও নির্বাচন করে এবং আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি যাব কি-না তখন উনাদের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

প্রশ্ন: যে প্রশ্নটা আপনার কাছে আসে তা অনেকটা আত্মসম্মানের। যে জায়গাটায় এখন দাড়িয়ে আছেন, বিশেষ করে ৮ ম্যাচে উইকেট নেই। ২০০১ সালে যখন শুরু করলেন নভেম্বরে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে, ওয়ানডে খেললেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শুরু হয়েছিল, ফ্লাওয়ার ব্রাদার্সের উইকেট নিলেন। ২০০৭-২০০৮ সালে তিন চারটা ম্যাচে আপনি উইকেট পাননি, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে আপনাকে পড়তে হয়নি। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে বলেই কি একটা বাড়তি মোটিভেশন কাজ করছে, আপনার যদিও মোটিভেশনের দরকার পড়ে না।

মাশরাফি: প্রথমত হচ্ছে যে, আত্মসম্মান বা লজ্জা- আমি কি চুরি করি মাঠে? আমি কি চোর? খেলার সাথে লজ্জা, আত্মসম্মান আমি মিলাতে পারি না। এত জায়গায় এত চুরি হচ্ছে, চামারি হচ্ছে তাদের লজ্জা নাই? আমি মাঠে এসে উইকেট না পেলে আমার লজ্জা লাগবে। আমি কি চোর? উইকেট আমি নাই পেতে পারি, আমার সমালোচনা আপনারা করবেন, সাপোর্টাররা করবে, লজ্জা পেতে হবে কেন? আমি কি বাংলাদেশের হয়ে খেলছি নাকি অন্য দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলছি, যে আমার লজ্জা পেতে হবে। আমি পারিনি আমাকে বাদ দিয়ে দেবে। জিনিসটা সাধারণ। এখন কথা হচ্ছে, আমার লজ্জা, আত্মসম্মানবোধ কার সঙ্গে দেখাতে যাব? আমি তো বাংলাদেশের হয়ে খেলতে নামছি। আমি কি বাংলাদেশের মানুষের বিপক্ষের মানুষ। যে কেউ পারফর্ম নাই করতে পারে। সেটা তো তার ডেডিকেশন না থাকে, কোনো জয়গায় ঘাটতি থাকে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন আসতেই পারে। আরেকটা সমালোচনা হতে পারে স্বাভাবিক- যেটা সারা পৃথিবীতেই হতে পারে, যে আমি উইকেট পাই না আমার সমালোচনা হবে। কিন্তু কথা যখন আসে লজ্জা, আত্মসম্মানবোধ তখন আমার প্রশ্ন থাকে। আমার সমালোচনা করুক, কিন্তু আমার আত্মসম্মানবোধ! আমি ক্রিকেট খেলতে এসে কি আমার আত্মসম্মানবোধ বিষর্জন দিতে আসছি নাকি।  আমি কি অন্য দেশের হয়ে খেলছি,নাকি চুরি করছি, চামারি করছি। তা তো না। সুতরাং এই জিনিসটার সঙ্গে আমি মোটেও একমত না।

আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে যেটা বললেন- আন্তর্জাতিক প্রত্যেকেটা ম্যাচে চাপ থাকে। মুশফিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত ম্যাচে ২০০ করেছে, কাল যখন ব্যাটিং করতে নামবে, বলের একটা চাপ থাকবেই। পরিস্থিতির একটা চাপ থাকে। চাপ সবাইকে মানিয়ে নিতে হবে। আমার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, পারফর্ম করিনি,জিনিসটা একটু জটিল জায়গায় আছে। কিন্তু এটা নিয়ে ভেবে তো এখান থেকে বেরোতে পারব না। একইভাবে আমি নিশ্চতয়তা দিয়ে বলতে পারব না- কাল পাঁচ উইকেট পেয়ে সবকিছু শেষ করে দিলাম। তাতে কিছুই শেষ হবে না। একটা খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে একটা বয়স বা সময় আসেই, যখন প্রত্যেকটা দিনই তার জন্য চ্যালেঞ্জিং। আমি হয়তো ওই সময়ে আছি। আজ থেকে চার বছর পর মুশফিক, তামিম বা যারা আছে- তাদেরও ওই পরিস্থিতি আসবে। তরুণ ক্রিকেটাররা চাইবে তাদের সাথে মিলাতে। এটা একটা প্রক্রিয়া এটা নিয়ে এতকিছু ভাবনার আমি দেখি না।

জিম্বাবুয়ে বলেই চাপমুক্ত কি-না?

মাশরাফি: না, আন্তর্জাতিক ম্যাচ আন্তর্জাতিক ম্যাচই। জিম্বাবুযের কাছে আমরা হারতেও পারি। এমন না যে আমরা জিম্বাবুয়ের কাছে আগে হারিনি। যে ম্যাচগুলো আমরা জিতেছি, এরমধ্যে কিন্তু দুই তিনটি ম্যাচ ছিল যে আমরা হারা ম্যাচ জিতে গেছি। তার মানে কি-তারা আমাদের হারাতে পারে। সুতরাং অতটুকু নিশ্চিত হয়ে আমাদের ক্রিকেট খেলতে হবে।

প্রশ্ন: লম্বা সময় পর বাংলাদেশ ওয়ানডে খেলছে, একটা গ্যাপ থাকলে তো অনেক কিছুই থাকে। মানসিক এবং শারীরিকভাবে দলের প্রস্তুতি কেমন? ড্রেসিংরুমের পরিবেশ কেমন? আগে একটা সেটআপ ছিল, এখন অনেকেই নতুন এসেছে দলে। শেষ স্কোয়াড থেকে সাত-আটটা পরিবর্তন এসেছে। সব মিলে দল কোথায় দাঁড়িয়ে?

মাশরাফি: অবশ্যই, এই ফরম্যাটে অনেকদিন পর নামছি। এটা একটা ব্যাপার। প্রথম ম্যাচে মেন্টালি একটু কাজ করবে সবকিছু সেট করার ক্ষেত্রে। আমরা যদি প্রথম থেকে জিনিসগুলো ঠিক মতো করতে থাকি, আশা করি ম্যাচ চলতে চলতে জিনিসগুলো চলে আসবে। শুরুটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ-ব্যাটিং বোলিং যেটাই করি। দলের পরিবেশ খুব ভালো আছে। তরুণ কিছু খেলোয়াড় এসেছে। কোচিং স্টাফও প্রায় নতুন। কিছুদিন কাজ করেছে। তরুণ যারা এসেছে তারাও উন্মুখ হয়ে আছে সুযোগ পেলে ভালো করার জন্য। সবাই ঠিক আছে, সুস্থ আছে। আর দলের কোথাও খারাপ নেই। বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচ জিতে আসার পর কিছুটা হলেও জয়ের ফ্লেভারটা দলের সাথে আছে। আশা করি, ঠিকঠাক থাকলে কালকে ভালোভাবে শুরু করতে পারব ইনশাল্লাহ।

প্রশ্ন: নিজের অবস্থান, বোর্ডের ব্যাখ্যা, কোনো কিছু ঠিক করেছেন, কোনো একটা জায়গায় থামবেন?

মাশরাফি: যদি থামতে হয় আপনারা জানবেন। থামাথামির বিষয়ে তো অনেক কথা বলেছি। বার বার এ ব্যাপারে একই প্রশ্ন করার তো কিছু নেই। আমার জায়গায় আপনারা কি-অস্পষ্ট আছেন? একই প্রশ্ন তো বার বার করার কিছু নাই। আর বোর্ড থেকে যদি কিছু বলে বা বোর্ড থেকে কিছু জানার থাকে তাহলে অবশ্যই বোর্ড থেকে জানবেন। বোর্ড বোর্ডের সিদ্ধান্ত জানাবে। আমার সাথে যেটা আলোচনা হবে পাপন ভাই বা বোর্ড সম্পৃক্ত যারা আছে, সেটা আপনাদের বলার কিছু নাই।

প্রশ্ন: দলে দুজন নতুন খেলোয়াড় আছেন। তাদের একাদশে দেখার সম্ভাবনা কতখানি?

মাশরাফি: এটা নিয়ে এখনও আলোচনা হয়নি। সবাই প্র্যাকটিসের ভেতরে আছে। কোচের একটা পরিকল্পনা আছে। কোচের পরিকল্পনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্বদেওয়া জরুরী। কারণ সেও নতুন আসছে। কিছু খেলোয়াড়কে সেট করতে চাইবে, খুব স্বাভাবিক। তাকে ওই সহযোগিতাটা সবাইকেই করতে হবে। আর তরুণরা কালকের ম্যাচ খেলবে কি-না এটা নিয়ে সিদ্ধন্ত এখনও হয়নি। ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যখন বসব তখন নিশ্চয়ই পরিস্কার হতে পারব তাদের পরিকল্পনা বা চিন্তাভাবনায় কি আছে।

প্রশ্ন: উইকেটটা নিয়ে একটু বলবেন?

মাশরাফি: উইকেটটটা মনে হচ্ছে, ঘাস আছে। কাটবে বলছে। অনুমান করা কঠিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে যখন এখানে খেলেছিলাম তখন অনেক স্লো ছিল। শিশির ছিল। রাতে ব্যাটিং করা একেবারে সহজ ছিল। এখন শিশির কতটা থাকবে। গরম প্রায় চলেই এসেছে। কাল একটা পরিস্কার ধারণা পাওয়া যাবে। এখন আউটফিল্ড এবং উইকেট মনে হচ্ছে একই। ঘাস কাটবে, কতটুকু কাটবে দেখা যাক।

Stay updated on the go with The Daily Star Android & iOS News App. Click here to download it for your device.

Grameenphone and Robi:
Type START <space> BR and send SMS it to 2222

Banglalink:
Type START <space> BR and send SMS it to 2225

পাঠকের মন্তব্য

Top