কুম্ভমেলার সঙ্গে নিজামুদ্দিন মারকাজের তুলনা উচিত নয়: উত্তরাখণ্ড মুখ্যমন্ত্রী | The Daily Star Bangla
০২:২২ অপরাহ্ন, এপ্রিল ১৪, ২০২১ / সর্বশেষ সংশোধিত: ০২:২৫ অপরাহ্ন, এপ্রিল ১৪, ২০২১

কুম্ভমেলার সঙ্গে নিজামুদ্দিন মারকাজের তুলনা উচিত নয়: উত্তরাখণ্ড মুখ্যমন্ত্রী

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ভারতের হরিদ্বারে করোনার তীব্র সংক্রমণের মধ্যেই চলছে কুম্ভমেলা। এ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

সমালোচকরা বলছেন, গত বছর মার্চে দিল্লির মারকাজ নিজামুদ্দিনে সমাগমের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও হরিদ্বারে কুম্ভমেলায় কয়েক লাখ মানুষের সমাগম নিয়ে কর্তৃপক্ষ নীরব।

আজ বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, হরিদ্বারে চলমান কুম্ভমেলার সঙ্গে নিজামুদ্দিন মারকাজের তুলনা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তিরাথ সিং রাওয়াত।

গতকাল মঙ্গলবার দুই ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন সমানভাবে দেখা হবে না— এমন প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মারকাজ একটি আবদ্ধস্থানে হয়েছে। সেখানে বিদেশিরাও অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, কুম্ভমেলা গঙ্গার বিস্তৃত ঘাটে খোলা জায়গায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কুম্ভমেলায় অংশ নেওয়া ভক্তরা বাইরের নয়, আমাদের নিজস্ব লোক।’

গত বছর মার্চে সংক্রমণের শুরুর দিকে দিল্লির তাবলিগ-ই-জামাতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় মারকাজ নিজামুদ্দিনে দেশ-বিদেশের অন্তত দুই হাজার মানুষের সমাগমের পর মসজিদটিকে ভারতে মহামারি ছড়ানোর অন্যতম ‘হটস্পট’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই সমাবেশ করায় তাবলিগ জামাতের প্রধান মাওলানা সাদ কান্দলভিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দিল্লি পুলিশ।

সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস আয়োজিত এক টক শোতে মুখ্যমন্ত্রী তিরাথ সিং রাওয়াত বলেন, ‘মারকাজ যখন অনুষ্ঠিত হয় তখন করোনার বিষয়ে তেমন সচেতনতা ছিল না বা কোনো গাইডলাইন ছিল না। মারকাজে যারা অংশ নিয়েছেন তারা কতক্ষণ আবদ্ধ ঘরে ছিলেন তা কেউ জানতো না। এখন করোনার বিধিনিষেধ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বেড়েছে।’

কুম্ভমেলায় ব্যাপক ভিড় ভারতে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউকে আরও শক্তিশালী করতে পারে কি না?— এর জবাবে তিনি বলেন, ‘কুম্ভ ১২ বছরে এক বার আসে। এটি কয়েক লাখ মানুষের বিশ্বাস ও অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত।’

রাওয়াত আরও বলেন, ‘মানুষের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে তবে বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলোকে পুরোপুরি এড়ানো যায় না। আক্রান্তের হার অবশ্যই বেড়েছে। তবে আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করছি। এ ছাড়া, করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার হার অনেক বেশি। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।’

মেলা অঞ্চলে মাস্ক ও স্যানিটাইজারদের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মেলায় সবাই যেন করোনার নির্দেশিকা অনুসরণ করে তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে দিনরাত কাজ করা হচ্ছে।’

এ ছাড়া, হরিদ্বারে প্রবেশ ও মেলায় অংশ নেওয়ার আগে সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে সবাইকে চেক করা হচ্ছে। প্রয়োজনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার হরিদ্বারে ‘মেষ সংক্রান্তি’ উপলক্ষে চলমান কুম্ভমেলায় আরেকটি শাহী-স্নানের আয়োজন করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার উত্তরাখণ্ডে এক দিনে ১ হাজার ৯২৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা এই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এনডিটিভি জানিয়েছে, মঙ্গলবার দেরাদুনে ৭৭৫ জন, হরিদ্বারে ৫৯৪ জন, নৈনিতাল ২১৭ জন ও উদম সিং নগরে ১৭২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং প্রদেশটিতে এক দিনে ১৩ জন করোনায় মারা গেছেন।

Stay updated on the go with The Daily Star Android & iOS News App. Click here to download it for your device.

Grameenphone and Robi:
Type START <space> BR and send SMS it to 2222

Banglalink:
Type START <space> BR and send SMS it to 2225

পাঠকের মন্তব্য

Top